ভারতে চরমপন্থার উত্থান ও সংখ্যালঘু নিপিড়নের প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল। আগামী দুই বছরের মধ্যে ভারতে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ ‘গণহত্যা’ বা ‘গণ-নৃশংসতা’ সংঘটিত হতে পারে বলে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম। সংস্থাটির বার্ষিক বৈশ্বিক সমীক্ষায় বিশ্বের ১৬৮টি দেশের মধ্যে ভারতকে চতুর্থ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত ‘আর্লি ওয়ার্নিং প্রজেক্ট’-এর ২০২৫-২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে আগামী ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বড় ধরনের জাতিগত বা ধর্মীয় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ৭.৫ শতাংশ। তালিকায় ভারতের উপরে রয়েছে কেবল মিয়ানমার, চাদ এবং সুদান। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, তালিকার শীর্ষে থাকা মিয়ানমার বা সুদানে বর্তমানে যুদ্ধাবস্থা চললেও ভারত এমন একটি দেশ যেখানে বড় ধরনের যুদ্ধ ছাড়াই এই ভয়াবহ ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি ভারতকে একটি সম্ভাব্য নতুন ‘ফ্ল্যাশপয়েন্ট’ বা সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।
প্রতিবেদনে গবেষকরা ‘গণহত্যা’ বা ‘গণ-নৃশংসতা’র সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক এক বছরের মধ্যে ধর্মীয়, জাতিগত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অন্তত ১ হাজার নিরীহ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে ‘গণহত্যা’। ডার্টমাউথ কলেজের সহায়তায় দীর্ঘ কয়েক দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভারত বর্তমানে ঠিক সেই পথেই হাঁটছে যা অতীতে অন্যান্য দেশে গণহত্যার আগে দেখা গিয়েছিল। জনসংখ্যা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের সূচকসহ প্রায় ৩০টি ফ্যাক্টর বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
হলোকাস্ট মিউজিয়ামের সিমোন-স্কজড সেন্টারের গবেষণা পরিচালক লরেন্স উচার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “হলোকাস্ট প্রতিরোধযোগ্য ছিল। যদি আমরা আগাম সতর্কবার্তাগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিই, তবে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।” প্রতিবেদনে সাফ জানানো হয়েছে, এটি কোনো সাধারণ ভবিষ্যদ্বাণী নয় বরং ঐতিহাসিক উপাত্তের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা। বিশেষ করে যেখানে সরকার পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেয় বা তথ্য নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে প্রকৃত ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মহলের করণীয় প্রতিবেদনে ভারতের পরিস্থিতি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের জরুরি ভিত্তিতে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা কোনো বিশেষ উস্কানি থেকে এই সহিংসতা শুরু হতে পারে কি না, তা নিয়ে বিশদ গবেষণার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে উগ্রবাদের বিস্তারে ভারতের সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিম ও অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠীগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করে আসছে। হলোকাস্ট মিউজিয়ামের এই নতুন রিপোর্ট সেই আশঙ্কাকেই আরও প্রকট করে তুললো।


