জামায়াতের জোটে আসন জট, জোট ছাড়ছে ইসলামী আন্দোলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami) নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট। দফায় দফায় বৈঠক, প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাবেও মিলছে না সমাধান। বরং জোটের শরিকদের মধ্যে টানাপড়েন চরমে পৌঁছেছে।

মূল সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (Islami Andolon Bangladesh)। দলটি দাবি করে অন্তত ৮০টি আসন না পেলে তারা জোটে থাকবেন না। প্রথমে তাদের জন্য ৪০টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, পরে তা ৪৫টিতে উন্নীত করা হলেও ইসলামী আন্দোলন অনড় থাকে। এমনকি আরও ৬–৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবেও তারা সন্তুষ্ট হয়নি।

অন্যদিকে, জামায়াত ৮০ আসন ছাড়তে নারাজ। কারণ, এতে তাদের সম্ভাবনাময় আসন হারানোর আশঙ্কা ছিল এবং অন্য শরিকদের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত আসনের দাবি বাড়তে পারত। ফলে সমঝোতার পথ ক্রমেই রুদ্ধ হয়ে পড়ে।

জোটের আরও সংকট শুরু হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) (National Citizen Party) জোটে যোগ দেওয়ার পর। এনসিপির যোগদানে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে চাপ ও অসন্তোষ বাড়তে থাকে। দলটি ১৪৩টি আসনে নিজেদের শক্তিশালী বলে দাবি করে এবং এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের আসনও দাবি করে বসে।

বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এককভাবে ২৬৬টি আসনে প্রার্থী দেবে। এর ফলে ১১ দলীয় জোট এখন কার্যত ১০ দলীয় জোটে পরিণত হতে যাচ্ছে।

জোটের শরিক দলগুলো একাধিকবার চরমোনাই পীরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে, এমনকি মাওলানা মামুনুল হক (Maulana Mamunul Haque)-ও সরাসরি যোগাযোগ করেন সমঝোতার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ফল মেলেনি। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে জামায়াতের এক নেতাকে পুরো পরিস্থিতি জানিয়ে দেন মামুনুল হক।

খেলাফত মজলিস (Bangladesh Khelafat Majlish) ও এবি পার্টি (AB Party) সহ জোটের অন্য শরিকরা যদিও এখনো ঐক্যবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্তে অটল। একাধিক নেতা জানিয়েছেন, কিছু আসনে নতুন বিন্যাস হতে পারে, তবে জোট ভাঙছে না।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, আজ দুপুরে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। একই সঙ্গে আগের দিন স্থগিত হওয়া সংবাদ সম্মেলন আজই অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *