রংপুরের তারাগঞ্জে মব তৈরী করে রূপলাল দাস ও প্রদীপ লালের মৃত্যু ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি–র এক স্থানীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম ইউনুস আলী (৩২)। তিনি এবি পার্টির তারাগঞ্জ উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব এবং সয়ার ইউনিয়নের মামুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার পরদিন গত বছরের ১০ আগস্ট নিহত রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত সাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পুলিশ পরে ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ১১ জনকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, “গু’\প্ত পি’\টুনিতে রূপলাল-প্রদীপ লাল হ’\ত্যা মামলায় ইউনুস আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিনি সরাসরি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”
এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রূপলাল দাস ও তাঁর ভাগনির স্বামী প্রদীপ লাল একটি ভ্যানে করে মিঠাপুকুর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে স্থানীয়রা তাঁদের গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
একপর্যায়ে প্রদীপের ব্যাগে থাকা একটি পানীয়ের বোতল ও কিছু ওষুধ পেয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ঢাকনা খোলার পর দুর্গন্ধে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি করা হয়। উত্তেজিত জনতা তাদের একটি বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে গিয়ে গু’\প্ত পি’\টুনি দেন।
পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানেই রূপলালকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে মারা যান প্রদীপ লাল।


