চাঁদাবাজির অভিযোগে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেলেন গণঅধিকার পরিষদ নেতা, উদ্ধারে সেনাবাহিনী

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারোঘরিয়ায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারির অভিযোগে কলেজ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাকিব। পরে তাকে একটি মেস থেকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা।

রোববার (১৮ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় বারোঘরিয়া নতুন বাজার এলাকায় তাকে ধাওয়া করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষার্থী, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বারোঘরিয়া এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন গণঅধিকার পরিষদ নেতা আব্দুর রাকিব।

এলাকায় কলেজ শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের কাছে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে আসছিলো তারা। এমনকি গত শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দুই শিক্ষার্থীর মোবাইল ও নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে আব্দুর রাকিব ও তার সহযোগীরা। জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণঅধিকার পরিষদের নেতা আব্দুর রাকিব মাত্র দেড় মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলেটেকনিক ইন্সটিটিউটকে উড়িয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এনিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রোববার সন্ধ্যায় নতুন বাজার এলাকায় তাকে দেখতে পেয়ে ধাওয়া করে কলেজ ছাত্ররা। এসময় নতুন বাজার এলাকায় সালাম মেসে আশ্রয় নেয় আব্দুর রাকিব। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার পর তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলেটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ওমর ফারুক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজ ছাত্র ও স্থানীয়দের উপর চাঁদাবাজি ও অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে আব্দুর রাকিব গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। কয়েকদিন আগেও থানায় ভুল স্বীকার করে ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি কলেজ ছাত্রদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছে। পাশাপাশি কলেজ উড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ নিয়ে কলেজ ছাত্ররা আজকে তাকে পেলে ধাওয়া করে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা নিয়ে যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, আব্দুর রাকিবকে ধাওয়া করলে একটি মেসে আশ্রয় নেয়। এসময় অবরুদ্ধ অবস্থায় তাকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। বর্তমানে থানায় রয়েছে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে মামলা দিলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গণঅধিকার পরিষদের আব্দুর রাকিব কয়েকজনকে নিয়ে গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার বারোঘরিয়া বাজারে পরপর সাতটি ককটেল হামলা করে পালিয়ে যায়। ককটেল হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন-অর-রশীদসহ ৬ জন আহত হয়। পরে ককটেল হামলার অভিযোগে আব্দুর রাকিবের মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ ও দলের ইউনিয়ন কার্যালয় ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *