ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলের অনিচ্ছার পেছনে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কারণ হিসেবে তুলে ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পিসিবি একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে আইসিসি-কে, যেখানে বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে না পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ‘যৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর খবরে বলা হয়েছে, আইসিসির পাশাপাশি বোর্ডের সদস্যদের কাছেও চিঠির অনুলিপি পাঠিয়েছে পিসিবি। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ বিবেচনায় বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসি একটি বোর্ড সভার আয়োজন করেছে। তবে পিসিবির মেইল এই সভার কারণ কি না, তা নিশ্চিত নয়।
উল্লেখ্য, ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজিত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে।
বিশ্বকাপের সূচি নিয়ে আলোচনার সময় আইসিসির অবস্থান ছিল দৃঢ়। বিসিবির সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতেও তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ম্যাচগুলো পূর্বঘোষিত সূচি ও ভেন্যু অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। বিসিবি জানায়, বাংলাদেশ সরকার দলকে ভারতে পাঠাতে অনিচ্ছুক এবং এই অবস্থানেই তারা অটল থাকবে।
এর আগে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, পিসিবি নাকি বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে নিজেরাও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও গুঞ্জন ছড়ায়। যদিও পিসিবি এসব বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি এবং ইএসপিএনক্রিকইনফোর জিজ্ঞাসার জবাবও দেয়নি।
বিশ্বকাপকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপড়েন নতুন মাত্রা পায় যখন বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান-কে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। ৩ জানুয়ারি বিসিসিআইয়ের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে, যা বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করেন, ভারতের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চাপ এবং দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েনের প্রতিফলন এই সিদ্ধান্ত।
মোস্তাফিজ ইস্যুর পরপরই বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা দেয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত সফর করে বিশ্বকাপে অংশ নেবে না বাংলাদেশ দল।
বিশ্বকাপ নিয়ে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হলেও, কোনো পক্ষই অবস্থান পরিবর্তন করেনি। ২১ জানুয়ারি এই সংকটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।


