বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ঢাকা-১৭ আসনে জামা’তের প্রার্থী যেসব চটকদার ও মুখরোচক বক্তব্য দিচ্ছেন, তা মূলত মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের কৌশল হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘সব সাইজ হয়ে যাবে, ঢাকায় কোনো সিট দেব না’—এ ধরনের বক্তব্য ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে, তবে এগুলো কোনো ব্যক্তি বিশেষের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কৌশল বলেই তারা মনে করেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, মানুষের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক মহান আহ তা’আলা। কোন আসনে কে বিজয়ী হবেন, সেটি কোনো ব্যক্তি বা দলের একক সিদ্ধান্তে নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাতেই নির্ধারিত হবে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এখন যদি কেউ এককভাবে ঢাকার ২০টি আসনের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান বা সব প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করতে চান, সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু জামা’তের ওই প্রার্থীকে আসন বণ্টনের দায়িত্ব কে দিয়েছে—সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বিএনপির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র আরও বলেন, জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে কারা বিজয়ী হবেন এবং কার জনভিত্তি কতটুকু। সুতরাং আসন বণ্টনের ঘোষণা কোনো দলের একক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যে বিএনপির বিষয়ে এসব মন্তব্য করা হচ্ছে, সেই দলটির ঢাকায় প্রায় সব আসনে একাধিকবার জয়ী হওয়ার ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে। অন্যদিকে, সম্মানের সঙ্গে বললেও তিনি উল্লেখ করেন, জামা’ত যে দলটির প্রতিনিধিত্ব করছে, তার জানা মতে তারা ঢাকায় কখনো কোনো আসনে জয়ী হয়নি।
মাহদী আমিন বলেন, যে কেউ ব্যক্তিগত মতামত দিতে পারেন, তবে মুখরোচক বক্তব্য দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে রাজনীতিকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে বিএনপির মতো সুদৃঢ় রাজনৈতিক দল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যারা বিষোদ্গার করেছেন, তারা শেষ পর্যন্ত জনভিত্তি হারিয়েছেন এবং জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশে বিএনপি ইতিবাচক রাজনীতি চায়। প্রত্যেকে যেন নিজ নিজ নীতিমালা ও ইতিবাচক কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতি করে—এটাই তাদের প্রত্যাশা। অহমিকা দেখানো, জনভিত্তি না থাকার পরও সব আসন বণ্টনের ঘোষণা দেওয়া—এসব কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ নিয়ে উদ্বেগ
আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলন করে ভিডিও ও তথ্য উপস্থাপন করেছেন। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে ওই আসনে জামা’তের প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই আসনের বাসিন্দা নন—এমন শত শত মানুষ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের আইডি, ফোন নাম্বার ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। এমনকি নারীরাও এতে যুক্ত রয়েছেন। মাহদী আমিন স্পষ্ট করে বলেন, এটি অত্যন্ত অনাকাঙ্খিত।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, যেখানে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের প্রার্থী বেছে নেবেন। কোনো ধরনের অপতৎপরতা বা অর্থনৈতিক লেনদেন বিএনপি কখনোই চায় না।
ঢাকা-১৫ আসনে উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহিরাগতরা গিয়ে বিকাশ নম্বর চাইলে স্থানীয় জনগণ সেটির প্রতিহত করেছে। এরপর জামা’তের বেশ কিছু নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে উত্তেজিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং এমনকি সেনাবাহিনীকেও সেখানে যেতে হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে।
মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি যে রাজনীতি ও যে বাংলাদেশ চায়, সেখানে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ইতোমধ্যে তারা নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আজ ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলেও ২০ জানুয়ারি কেন বহিরাগতরা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইবে বা আইডি নম্বর সংগ্রহ করবে—সেই প্রশ্নও উঠে আসে। এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
থিম-সংয়ে পুলিশ ব্যবহারের ব্যাখ্যা
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচনি অফিসিয়াল থিম-সং প্রসঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জুবায়ের বাবু বলেন, থিম-সংয়ে পুলিশের যে দৃশ্য দেখানো হয়েছে, সেখানে পুলিশ জাতীয় পতাকাকে স্যালুট দিচ্ছেন, ভোট দিচ্ছেন না। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।
তিনি বলেন, বিএনপির থিম-সংয়ে বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব দেখানো হয়েছে—পুলিশ, ডাক্তার কিংবা সাধারণ মানুষ। কারণ বিএনপির স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। বাংলাদেশ মানেই আমরা সবাই, পোশাক যাই হোক না কেন—পরিচয় সবার আগে বাংলাদেশি।


