আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে “দেশ গড়ার নির্বাচন” হিসেবে আখ্যা দিয়ে তারেক রহমান (Tarique Rahman) বলেছেন, ষড়যন্ত্র ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, একটি রাজনৈতিক দল ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে প্রস্তাবিত উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণকে এখন বলা হচ্ছে, অমুককে দেখেছেন, তমুককে দেখেছেন, এবার আমাদের দেখেন। কিন্তু এই দলটিকে আমরা ৫০ বছর আগেই দেখেছি— ’৭১ সালে তারা কাদের পক্ষে ছিল, লক্ষ লক্ষ মানুষ হ’\ত্যা করা হয়েছে তাদের কারণে। নতুন করে তাদের দেখার কিছু নেই।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ওই দলটি এখন মা-বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, বিকাশ নম্বর ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করছে। টাকা পাঠানো হচ্ছে। এসব খবর পত্রপত্রিকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। নির্বাচনের আগেই যারা এমন অসৎ কাজ করে, তারা কেমন করে আদর্শের কথা বলে?’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এরা কেউ যায় দিল্লি, কেউ পালিয়ে যায় পি’\ন্ডি। কিন্তু বিএনপি এ দেশেই ছিল, আছে, থাকবে। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কীভাবে করতে হয়। সেটা আমাদের কথা নয়, আন্তর্জাতিক দুর্নীতি পর্যবেক্ষণ সংস্থার ভাষ্য।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকবে। পরে হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাম্মী আক্তার। বক্তৃতা দেন হবিগঞ্জ-১ আসনের রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ এর আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ এর জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ এর সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল।
মৌলভীবাজারেও সরব ছিলেন তারেক রহমান
হবিগঞ্জের আগে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকার আইনপুর খেলার মাঠে আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন বুঝতে পারছে, কারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। মানুষ তাদের ষড়যন্ত্র ধরে ফেলেছে। এখন তারা সরকারকে বলছে, নিরাপত্তা দিতে হবে, প্রটোকল দিতে হবে। আমি সরকারকে বলছি, আমাদের যেটুকু দেন, তাদের তিনগুণ দিন। কারণ, মানুষ তাদের প্রতারণা বুঝে গেছে, ক্ষিপ্ত হচ্ছে।’
জনসভায় তুলে ধরেন গত ১৫–১৬ বছরে দেশে যে ‘তামাশার নির্বাচন’ হয়েছে। তারেক বলেন, ‘কখনো আমি-ডামি নির্বাচন, কখনো নিশিরাতে ভোট, কখনো ভোট চুরির নির্বাচন হয়েছে। জনগণকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি দল দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। কারও প্রতিবাদ করতে দিলে গুম, হ’\ত্যা, গা’\য়ে’\বি মামলা দিত।’
তিনি বলেন, ‘এই ১৬ বছরে কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরং সংসদ ভবনে গান গাওয়া হয়েছে, এমন কাজ হয়েছে যা দেশের মানুষের চাহিদার সঙ্গে মেলে না।’
রাস্তার দুরবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে ঢাকা থেকে সিলেটে আসতে আট ঘণ্টা লাগে। লন্ডনে যেতেও এত সময় লাগে না। রাস্তা ভাঙা, স্কুল-কলেজ, হাসপাতালের একই অবস্থা। যদি উন্নয়ন চান, তাহলে দরকার ধানের শীষের সরকার।’
তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছি আমরা। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছে। ৫ আগস্টের নির্বাচন স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন। এবার জনগণের শাসন ফিরিয়ে আনতে হবে। অতীতে যে স্বৈরাচার দেশের ক্ষমতা অন্য দেশের হাতে তুলে দিয়েছিল, এখন সে ভুল শুধরে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে।’
মৌলভীবাজারের সভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ও সদস্যসচিব আবদুর রহিম। বক্তৃতা দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউস, সিলেট বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান এবং জেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা জামিউল আহমদ আনসারি।


