দুই দশক পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান, জনসমুদ্রের জন্য প্রস্তুত পলোগ্রাউন্ড

দীর্ঘ ২০ বছর ৭ মাস পর চট্টগ্রাম আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)। তার আগমন ঘিরে চট্টগ্রামজুড়ে বইছে উচ্ছ্বাস, বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই নয়, সাধারণ মানুষের মাঝেও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ—এমনটাই দাবি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নেতাকর্মীদের। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে বিমানে করে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছাবেন এবং রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন রোববার ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি।

দলীয় সূত্র জানায়, এ সমাবেশ হবে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৃহৎ জমায়েত। পলোগ্রাউন্ড মাঠে তৈরি করা হচ্ছে ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রশস্ত মঞ্চ। মাঠজুড়ে থাকবে ২০০টি মাইক ও ১০টি এলইডি স্ক্রিন, যাতে বাইরে থেকেও মানুষ তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে পারেন।

বিএনপির নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের এ সফরের মাধ্যমে চট্টগ্রামে দলের রাজনৈতিক গতি আরও বাড়বে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও পুনর্জাগরণ ঘটবে। গত ৯ জানুয়ারি প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এরপর এটাই হবে চট্টগ্রামে তার প্রথম সফর এবং প্রথম বড় সমাবেশ।

চট্টগ্রামের সঙ্গে তারেক রহমানের সম্পর্ক নতুন নয়। ২০০৫ সালে তিনি সর্বশেষ চট্টগ্রামে এসেছিলেন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পক্ষে প্রচারে। এরপর দুই দশক পেরিয়ে আবারও বীর চট্টলায় ফিরছেন তিনি—এবার দলের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে।

সমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম মহানগর জুড়ে নজিরবিহীন প্রস্তুতি চলছে। সিএমপি এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জনশৃঙ্খলা রক্ষায় কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অস্ত্র, লাঠি, ইট-পাটকেল, বিস্ফোরক দ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়নও নিষিদ্ধ। এই আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

সমাবেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতারা সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পুলিশ প্রশাসন পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

পলোগ্রাউন্ড মাঠের সমাবেশে বিএনপির নেতারা বলছেন, এবার শুধু দলীয় কর্মসূচিই নয়, এটি হবে গণমানুষের অংশগ্রহণে এক ঐতিহাসিক সমাবেশ। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রামবাসী বরাবরই জিয়া পরিবারের প্রতি অনুগত। খালেদা জিয়ার সমাবেশেও ছিল মানুষের ঢল। এবারও সেই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হবে।”

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “বীর চট্টলার মানুষ আজ অপেক্ষায়, তাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর জন্য। পলোগ্রাউন্ডের মাটি আবার ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে।”

নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ বলেন, “আমাদের দায়িত্ব এখন তারেক রহমানকে চট্টগ্রামে বরণ করে নেওয়া। এই উপলক্ষে নেতাকর্মীরা রাতদিন কাজ করছেন।” সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানান, “১০ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি হবে। সাধারণ মানুষও দলে দলে সমাবেশে যোগ দেবে।”

তারেক রহমানের রোববারের দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুযায়ী, সকালে র‌্যাডিসন ব্লুতে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তিনি দুপুরে পলোগ্রাউন্ড মাঠে ভাষণ দেবেন। এরপর সড়কপথে ফেনী, কুমিল্লা এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিয়ে রাত ২টার দিকে গুলশানে ফিরবেন।

দলীয় নেতাদের আশা, এই সফর বিএনপির প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানাবেন তারেক রহমান, তুলে ধরবেন আগামী দিনের রোডম্যাপ এবং জনগণের কাছে ধা’\নের শী’\ষের পক্ষে সমর্থন চাইবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *