রংপুরের পীরগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami Bangladesh) আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে নির্বাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিনে পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শুরু করেন দিনের কার্যক্রম।
কবর জিয়ারতের সময় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ছিলেন জামায়াত আমিরের পাশে। মোনাজাতে আবেগঘন পরিবেশে ডা. শফিকুর রহমান মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন, “হে আল্লাহ, জুলাই আন্দোলনে যারা বৈষম্য, অ’ন্যায় ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জীবন দিয়েছেন, তুমি তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করো।”
তিনি আরও বলেন, “আবু সাঈদের রেখে যাওয়া দায়িত্ব আমরা পালনের অঙ্গীকার করছি। দেশের ঘরে ঘরে বিপ্লবী যুবক তৈরি করে দাও, যারা ঈমান ও জাতির পাহারাদার হবে এবং দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত থাকবে।”
এরপর জামায়াত আমির আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী শহীদ আবু সাঈদের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে ইনসাফ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
গত ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। সেই আন্দোলনের শহীদ হিসেবে তাকে সম্মান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে, আল্লাহ যেন তাদের সাহায্য করেন।”
জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে বাবনপুর গ্রামে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন। সেখানে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আক্তার হোসেনসহ জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার হেলিকপ্টারে পঞ্চগড় আসেন, সেখান থেকে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও রংপুর শহরের জনসভা শেষ করে আজ পীরগঞ্জে পৌঁছান। জিয়ারত শেষে তিনি গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা হয়ে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।


