গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মাশক গ্রামে এক যুবলীগ নেতার গরুর খামার থেকে আটটি জবাই করা ঘোড়ার মাংস এবং ১১টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করেছে প্রশাসন। শনিবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সালের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
ঘটনার মূল অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম ওই গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে এবং কাপাসিয়া উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন ‘জুহি লাবীব ডেইরি ফার্মে’ অপরিচিত কিছু মানুষের সন্দেহজনক আনাগোনা দেখতে পান প্রতিবেশীরা। রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা একজোট হয়ে খামারে হানা দিলে জাহাঙ্গীরসহ অন্যরা পালিয়ে যান।
উত্তেজিত জনতা এসময় ঘটনাস্থলে থাকা একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে এবং ঘোড়া বহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সালের নেতৃত্বে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা খামারে অভিযান চালান। অভিযানে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া হয়: উদ্ধারকৃত ৮টি জবাই করা ঘোড়ার মাংস জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। উদ্ধার হওয়া ১১টি জীবিত ঘোড়াকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম এ ওহাব খান খোকার জিম্মায় রাখা হয়েছে।
এই চক্রের সাথে আর কে কে জড়িত এবং এই মাংস কোথায় সরবরাহ করা হতো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অভিযানকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আতিকুর রহমান ও ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। পলাতক যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।


