‘নতুন বাংলাদেশের রূপকার তারেক রহমান’ – টাইম ম্যাগাজিনে বিশেষ প্রতিবেদনে

বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন–এ বিশেষ এক প্রতিবেদনে তারেক রহমান-কে চিত্রায়িত করা হয়েছে ‘প্রত্যাগত রাজপুত্র’ হিসেবে—যিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে নিজেকে গড়ছেন নতুন এক রাজনৈতিক রূপে। “Exclusive: Bangladesh’s Prodigal Son” শিরোনামে চার্লি ক্যাম্পবেলের নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর ভবিষ্যত দর্শন, পরিকল্পনা, এবং বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন।

টাইম বলছে, রাজনীতিক হওয়ার জন্মগত পরিচয় থাকা সত্ত্বেও তারেক রহমান এখন কেবল একজন দলের নেতা নন, বরং হয়ে উঠেছেন পরিবর্তনের রূপকার। ঢাকার দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতির মতো তিনিও বলছেন—“এটি এক নতুন বাংলাদেশ”, যেখানে বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন এবং সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার থাকবে সুরক্ষিত

২০২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর লাখো মানুষ তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানায়। মাত্র পাঁচ দিন পরেই মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র মৃত্যুশোক বুকে নিয়েই তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো দেশ ও জনগণের পাশে দাঁড়ানো। তিনি বর্তমানে ঢাকায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিজেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।

প্রতিবেদনে তারেক রহমানের রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রসঙ্গও এসেছে। লন্ডনের নির্বাসিত জীবনে তিনি নিজের ভেতরে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। ইতিহাস বই পড়া, রিচমন্ড পার্কে হাঁটাহাটি করা এক সময়ের তরুণ রাজনীতিক এখন অনেক বেশি নীতি নির্ধারণী বিষয়ে সচেতন (policy wonk)। আগের চেয়ে অনেক ধীরস্থির, পরিমিত এবং মনোযোগী শোনানো হয় তাঁকে।

তিনি নিজেকে দেখছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের উত্তরাধিকারী এবং একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে। দেশের অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—
১২ হাজার মাইল খাল খনন,
প্রতি বছর ৫ কোটি গাছ রোপণ,
ঢাকায় ৫০টি নতুন সবুজ এলাকা গড়ে তোলা,
অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং
স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন আনা

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যখাত আধুনিকায়ন তাঁর আরেকটি অগ্রাধিকার।

তারেক রহমান বলেছেন, “আমি যা পরিকল্পনা করেছি, তার ৩০ শতাংশও যদি বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে দেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবে।”

প্রতিবেদনে বিগত দিনের তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি, ‘খা’\ম্বা তা’\রেক’ উপাধি এবং অপপ্রচারের কথাও উল্লেখ করা হয়। তিনি সব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং বলেন, “কোনো অভিযোগেরই প্রমাণ মেলেনি।” তিনি জানান, জেলখানায় নির্যাতনের ফলে তাঁর মেরুদণ্ডে আজও যন্ত্রণা হয়, কিন্তু সেটাকেই তিনি জনগণের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও খোলাখুলি মত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করেন। ভারতের বিষয়ে তিনি বলেন, “সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। তরুণ প্রজন্ম ভারতের প্রতি অসন্তুষ্ট—এই বাস্তবতা ভারতকেও বুঝতে হবে।”

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনকালকে তিনি দমন-পীড়নের সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। দাবি করেন, “এই সময়ে ৩৫০০+ মানুষ গু’\ম হয়েছে, অসংখ্য প্রাণ গেছে।” তবে তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতির পথে হাঁটতে চান না। বলেন, “অপরাধীদের বিচার হবে দেশের প্রচলিত আইনেই।” তাঁর মায়ের জানাজায় সকল রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়ার বিষয়টিও টাইমে প্রশংসিত হয়েছে।

প্রতিবেদনের এক পর্যায়ে তারেক রহমান স্পাইডার-ম্যান সিনেমার বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন,

“With great power comes great responsibility”
এই কথাটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু—দায়িত্ববোধ।

টাইম ম্যাগাজিনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনই নির্ধারণ করবে, বাংলাদেশের এই ‘প্রত্যাগত রাজপুত্র’ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *