বনানীতে চায়ের আড্ডায় জাইমা রহমান, শুনলেন তরুণদের প্রত্যাশা-স্বপ্নের কথা

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান (Zaima Rahman) তরুণদের প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও সমাজ নিয়ে তাদের ভাবনার কথা সরাসরি শুনলেন এক অনানুষ্ঠানিক ‘চায়ের আড্ডায়’। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস খেলার মাঠে এই আড্ডার আয়োজন করে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কন্টেন্ট জেনারেশন টিম।

এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন, যারা ছয়টি গোল টেবিলে ভাগ হয়ে বসেন। বিকেল সোয়া ৩টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই আড্ডায় জাইমা রহমান প্রত্যেক টেবিলে গিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন ও মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন।

আলোচনায় উঠে আসে তরুণদের নানাবিধ বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা। একজন নারী শিক্ষার্থী অনলাইন ও জনসমাগমে হেনস্তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন।” জবাবে জাইমা রহমান বলেন, “নারীদের নিরাপত্তা আমাদের এক নম্বর প্রায়োরিটি হওয়া উচিত। দেশের ৫১ শতাংশ জনগোষ্ঠী নারী। তারা যদি নিরাপদ না থাকেন, মত প্রকাশ করতে না পারেন—তাহলে উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।”

ঢাকার ট্রাফিক পরিস্থিতি, নগরের দূষণ ও অবকাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে শৃঙ্খলা থাকলেও বাইরে রাস্তায় নামলেই বিশৃঙ্খলা।” এ কথার প্রেক্ষিতে জাইমা বলেন, “এই সমস্যা দীর্ঘদিনের, কিন্তু পরিবর্তন সম্ভব।”

বাতাসের মান, পরিবেশ দূষণ ও খাল-বিল সংস্কারের প্রসঙ্গও উঠে আসে। জাইমা বলেন, “শীতকালে এসির ব্যবহার কম থাকায় দূষণ কিছুটা কম মনে হয়। কিন্তু গরমের সময় চিত্র ভয়াবহ হয়ে যায়। গাছপালা কমে গেছে, খাল খনন হয়নি—এই সব নিয়ে ভাবতে হবে।”

বেসরকারি ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দূরত্বের কথাও উঠে আসে আলোচনায়। একজন স্ট্যামফোর্ড শিক্ষার্থী বলেন, “প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেগলেক্ট করা হয়, এমনকি নীতিনির্ধারণে আমাদের অবদানকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।” উত্তরে জাইমা বলেন, “এটা ঠিক যে, সমান সুযোগ থাকা উচিত। এই ভেদাভেদ দূর করতে হবে এবং নতুন প্রজন্মই তা সম্ভব করে তুলতে পারে।”

আড্ডার এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা জানতে চান, জাইমা রহমান কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান? উত্তরে তিনি বলেন, “আমি এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে সবাই নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে, ভিন্নমত থাকবে, সহনশীলতা থাকবে। বিভিন্ন সংস্কৃতি, আদর্শের মানুষ যেন একসঙ্গে বাস করতে পারে, সেটাই আমাদের ঐতিহ্য—তা যেন না হারিয়ে যায়।”

আলোচনায় উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, কর্মসংস্থানের সুযোগ-চ্যালেঞ্জ এবং প্রাণী অধিকার নিয়েও কথা হয়। একাধিক শিক্ষার্থী বিড়ালসহ প্রাণীর কল্যাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শেষ পর্বে জাইমা রহমান কোনো মঞ্চে বক্তৃতা না করে শিক্ষার্থীদের মাঝে হেঁটে হেঁটে কথা বলেন। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে চা, চটপটি, জিলাপি ও ঝালমুড়িও উপভোগ করেন, যা আয়োজনটিকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

ব্র্যাক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ ও স্ট্যামফোর্ডসহ নানা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরব অংশগ্রহণ এই চায়ের আড্ডাকে পরিণত করে এক মানবিক সংলাপে—যেখানে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, অংশগ্রহণ আর আশার আলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *