বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ‘সাজানো’ আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় (Sajeeb Wazed Joy)। সোমবার কলকাতার সত্যজিৎ রায় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়াল ভাষণে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের ফলাফল আগেই নির্ধারিত, ভোট দিলেও কিছু বদলাবে না।”
‘ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ’ শীর্ষক সদ্যপ্রকাশিত বইকে ঘিরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জয় অভিযোগ করেন, “অতিরিক্ত পোস্টাল ব্যালট ছাপা হয়েছে, যা কেউ যাচাই করতে পারবে না। ব্যালট কোথা থেকে এসেছে, কারা ছাপ দিয়েছে—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।” তার ভাষায়, “এমনকি কেউ কুয়েতে বসে হাজারে হাজারে ব্যালট ছাপ দিতে পারে, আর এটা প্রমাণ করাও কঠিন।”
বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সরাসরি বার্তায় জয় বলেন, “আমি জানি আপনারা দেশে কষ্টে আছেন। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। মব সন্ত্রাস চলছে। সরকারবিরোধী কেউ কথা বললেই আ’\ক্রমণের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু ভোট দিলেই কি এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলবে?”
তার মতে, ভোটাররা ভোট দিলেও নির্বাচনের ফল নির্ধারিতই থাকবে। তিনি বলেন, “বিএনপি হয়তো বেশি সিট পাবে, কিন্তু তাও সীমিত থাকবে। একটি দুর্বল সরকার গঠনের ছক করা হয়েছে যাতে কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়।” তিনি সরাসরি বলেন, “আপনি যদি ভোট দেন, তাহলে এই সাজানো নির্বাচনকে বৈধতা দেবেন। তাই দেশের সংবিধান, ভবিষ্যৎ রক্ষায় ভোট না দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
জয় আরও বলেন, “আপনি যদি ভোট না দেন, তাহলে অন্তত এই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া কঠিন হবে।”
কলকাতার এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ভারতের সাবেক সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যিই চিন্তার কারণ আছে।”
‘ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ’ বইটির লেখক দীপ হালদার ও শহীদুল হাসান খোকন বই রচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। বক্তৃতা দেন বিজেপির পঙ্কজ রায়, সিপিআই-এর সায়রা শাহ হালিম, কংগ্রেসের রুহান মিত্র ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মানস ঘোষ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কলকাতায় আয়োজিত এই সভায় আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং অঙ্গসংগঠনের বহু নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন এবং জয়-এর ভাষণে তাদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
প্রসঙ্গত, ভারতের আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনা এর আগেও ভারতে অবস্থানকালে অডিও ভাষণ দিয়েছেন এবং ই-মেইলের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তবে সরাসরি জনসমক্ষে আসেননি। কলকাতার এই অনুষ্ঠান ছিল হাসিনার পুত্র জয়ের প্রথম ভার্চুয়াল প্রকাশ্য বক্তব্য, যা ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও আলোচিত হয়েছে।


