“ভোট যদি ঠিক মতো হয়, জামায়াত ১০ শতাংশও পাবে কিনা সন্দেহ”—এমন মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান (Advocate Fazlur Rahman)।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মিঠামইনের ঢাকী ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “কে ওদের কর্মী, কে ওদের ভোট দিবে?”—জামায়াতের জনপ্রিয়তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জনসভায় ফজলুর রহমান বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ইটনাতে পাঁচজন, মিঠামইনে দশজন, অষ্টগ্রামে পাঁচজন পাকিস্তানি মিলিটারি বসবে। রাজাকার-আলবদরদের নিয়ে দেশ আবার ১৯৭১-এ ফিরে যাবে। মানুষ রাস্তায় হাঁটতেও পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এই দেশের মা-বোনের ইজ্জত থাকবে না। আল্লাহর দোহাই লাগে, আমাকে ভোট দিয়েন না সমস্যা নাই, কিন্তু এদের ভোট দিয়ে দেশটাকে পাকিস্তান বানায়েন না। এদের চেয়ে খারাপ মানুষ এই দুনিয়াতে জন্ম নেয় নাই।”
ফজলুর রহমান জামায়াত নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ওরা বলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবে, আবার তাদের ডাকসুর ভিপি বলে তারেক রহমানকে লাথি মেরে দেশছাড়া করবে। এত বেয়াদব মানুষ হয় কীভাবে? এই বেয়াদবি, বেতমিজ, বেইমানি—এই শব্দগুলো জামায়াতের জন্যই ডিকশনারিতে আছে।”
নির্বাচনী মাঠে ধর্মকে ব্যবহার করার অভিযোগও তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, “প্রথমে বোরকা পরা কিছু মহিলা দিয়ে শিশুদের বিস্কুট-চকলেট দেয়, পরে মায়েদের বলে—ভোট দিলে বেহেশতের টিকিট পাওয়া যাবে। অথচ বেহেশতের টিকিট দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। মানুষ হয়ে আল্লাহ সাজার চেষ্টা করলে তার জায়গা জাহান্নামে।”
মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক নিয়ে জামায়াতের আমীরের বিতর্কিত মন্তব্যের পরদিনই বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধার সরাসরি জামায়াতকে আক্রমণ করে দেওয়া এমন বক্তব্য এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।


