বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে একাধিক বড় উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। দলটি জানিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে দেশের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ করা হবে। এই বরাদ্দের লক্ষ্য হবে, প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman) ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
ই-হেলথ কার্ড: সবার জন্য চিকিৎসার গ্যারান্টি
ইশতেহারে ঘোষণা করা হয়েছে, প্রতিটি নাগরিকের জন্য চালু করা হবে একটি ‘ই-হেলথ কার্ড’, যার মাধ্যমে তারা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এই কার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে একটি আধুনিক, কেন্দ্রীয় হেলথ ডেটাবেজ, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এতে চিকিৎসাসেবা আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যে বিশেষ গুরুত্ব
তারেক রহমান-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য এবং জটিল ও প্রাণঘাতী রোগের আধুনিক চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) মডেল গড়ে তোলা হবে। এতে করে একদিকে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছাবে জনগণের দোরগোড়ায়, অন্যদিকে বেসরকারি খাতের দক্ষ ব্যবস্থাপনাও ব্যবহার করা যাবে।
স্বাস্থ্য পর্যটনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা
স্বাস্থ্যসেবাকে শুধু দেশের জনগণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে, বিএনপি বাংলাদেশকে ‘স্বাস্থ্য পর্যটন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ পরিকল্পনার মূলভিত্তি হবে একটি দুর্নীতিমুক্ত, মানসম্মত ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হয়, তবে তা দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।


