প্রতিনিধিদের পাঠানো মাঠপর্যায়ের জরিপ, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়, প্রার্থীভিত্তিক জনআগ্রহ ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত, অতীত নির্বাচনের ফলাফল এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে তাজাখবরের এআই মডেল চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৮টি সংসদীয় আসনের নির্বাচন প্রজেকশন তৈরি করেছে। এই বিশ্লেষণে দলীয় শক্তি, জোট রাজনীতি, বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব, স্থানীয় ভোট ব্যাংক , সংখ্যালঘু ভোটের অনুপাত এবং নগর ও গ্রামীণ ভোটের পার্থক্যকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তাজাখবরের এআই মডেলের প্রজেকশন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে বিএনপি জোট শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। মোট ৫৮টি আসনের মধ্যে অন্তত ৪০ টি আসনে বিএনপি জোট, ৬ টি জামায়াত জোট এবং ২ টি আসনে বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীরা অনেকটাই এগিয়ে আছে। বাকি ১০ টি আসনের অন্তত ৩ টিতে বিএনপি জোট প্রার্থীরা সরাসরি মুখোমুখি বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীর। এই আসনগুলোতে বিএনপি জোট অথবা বিদ্রোহী প্রার্থীরাই জয়ী হতে পারেন। আর ৭ টি আসনে কোনোটিতে বিএনপি’র সাথে জামায়াতের দ্বিমুখী আবার কোনো কোনোটিতে বিএনপি জোট-বিএনপি বিদ্রোহী-জামায়াত প্রার্থীদের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাজাখবরের এআই বিশ্লেষণে আসন ভিত্তিক নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস এবং নির্বাচনের লাইভ ফলাফলের জন্য ভিজিট করুন – তাজাখবর নির্বাচন (TazaKhobor)
এইসব দ্বিমুখী আর ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিবেচনায় নিয়ে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শেষে চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৮টি আসনের মধ্যে ৪৬টি আসনে বিএনপি জোটের জয় সম্ভাব্য বলে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত জোট ৮টি আসনে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে এবং বিএনপির বিদ্রোহী বা শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৪টি আসনে মূল সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। সংখ্যাগত বিচারে এটি বিএনপি জোটের জন্য একটি স্পষ্ট লিড হলেও কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম বিভাগের এই ফলাফলের পেছনে একাধিক স্তরের কারণ কাজ করছে। উপকূলীয় জেলাগুলোতে—বিশেষ করে বন্দরনির্ভর অর্থনীতি ও মৎস্যভিত্তিক অঞ্চলে—ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী ভোটারদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক অসন্তোষ বিএনপির পক্ষে জনমত তৈরি করছে। এসব এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক উপস্থিতি ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে পার্বত্য ও পাহাড়ি অঞ্চলে ভোটের চরিত্র তুলনামূলক ভিন্ন হলেও সেখানেও বিএনপি জোটের অবস্থান শক্ত। স্থানীয় পর্যায়ের সমঝোতাভিত্তিক রাজনীতি, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত ইস্যুতে ভোটারদের প্রত্যাশা বিএনপিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। তবে এসব অঞ্চলে কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি ভোট ভাগ করে দিতে পারে, যা ফলাফলকে কিছুটা অনিশ্চিত করে তুলছে।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম বিভাগে উপকূল থেকে পাহাড়—সব অঞ্চল মিলিয়ে বিএনপি জোট একটি পরিষ্কার লিডে রয়েছে। যদিও জামায়াত জোট ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা সীমিত পরিসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করছে, তবু বর্তমান প্রজেকশন অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগ বিএনপি জোটের জন্য অন্যতম শক্ত ভিত্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভাগের ফলাফল জাতীয় পর্যায়ে বিএনপির সামগ্রিক আসনসংখ্যা ও জোট রাজনীতির ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাজাখবরের এআই বিশ্লেষণে আসন ভিত্তিক নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস এবং নির্বাচনের লাইভ ফলাফলের জন্য ভিজিট করুন – তাজাখবর নির্বাচন (TazaKhobor)
নির্বাচনের লাইভ ফলাফল ও আসনভিত্তিক প্রজেকশনের জন্য দেখতে থাকুন: তাজাখবর নির্বাচন এরিয়া পোর্টাল।


