ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে নিজ এলাকায় ভোট দিতে ঢাকা ছাড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। ঈদের ছুটির মতোই দেশের বিভিন্ন বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে শুরু করে গাজীপুর, কালিয়াকৈর, সদরঘাট—সব জায়গায় ভোটারদের বাড়ি ফেরা যেন এক বিশাল জনস্রোতে রূপ নিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে কমলাপুর স্টেশনে দেখা যায়, অনেকেই জায়গা না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠেছেন। মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক যাত্রী বলেন, “অনেক কষ্ট করে ট্রেনে উঠেছি, কিন্তু এখনো অনেকে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁরা উঠতে পারছেন না।” গাজীপুরের টঙ্গী রেলস্টেশনে ছিল সাধারণ দিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভিড়।
শ্রমজীবী মানুষেরা ছাদে চড়েই ফিরছেন বাড়িতে। ভোট উপলক্ষে ঘোষিত ছুটিতে তাঁদের সঙ্গে রওনা হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও। একযোগে যাত্রা করায় ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী এলাকায় সকাল থেকেই দীর্ঘ গাড়ির সারি লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীদের স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লেগেছে গন্তব্যে পৌঁছাতে।
এদিকে বাস ও ট্রাকের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় গাড়ি সংকটে পড়েছেন অনেকে। সামনে যেটা পেয়েছেন—বাস, পিকআপ, এমনকি ট্রাকেও চড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, টিকিট না পাওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাব নিয়ে।
ভিড় ছিল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল-এও। সাধারণ দিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা দিয়েছে।
তবে এর একেবারে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে কক্সবাজারে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা ৮২ ঘণ্টার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রটি।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন-এর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে হোটেল-মোটেলগুলোকে পর্যটকদের কক্ষ ভাড়া না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলীসহ সব পয়েন্টেই নীরবতা বিরাজ করেছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে পর্যটকের ভিড় লেগে থাকে, সেখানে এখন শূন্যতা। সৈকতে যারা ছিলেন, তাদের বেশির ভাগই স্থানীয়।
নির্বাচনের ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্বের কারণে এমন বিপরীত চিত্র বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


