“নতুন বাংলাদেশে মির্জা ফখরুলের মতো মানুষের প্রয়োজন”—আব্দুল কাদের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। ১০ ফেব্রুয়ারি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি আবেগঘন পোস্টে তিনি মির্জা ফখরুলের চরিত্র, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতা এবং ত্যাগের নানা দিক তুলে ধরেন।

আব্দুল কাদের লিখেছেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, একজন সজ্জন ব্যক্তি এবং নিপাট ভদ্রলোক, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বিরল।” কৈশোর থেকে রাজনীতি সচেতন হয়ে মির্জা ফখরুলকে অনুসরণ করার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তার পরিশীলিত যুক্তিবোধ, মার্জিত বক্তব্য ও ধৈর্যশীল মানসিকতা একটি প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, মির্জা ফখরুলের পেশাগত জীবন শুরু হয়েছিল শিক্ষকতা দিয়ে, যা তার রাজনৈতিক চেতনায় বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। আশির দশকের শেষের দিকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের আগেই তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে দেন এবং পুরোপুরি নিজেকে জনসেবায় নিয়োজিত করেন।

আব্দুল কাদের তাঁর পোস্টে ফখরুলের ছাত্র রাজনীতির অতীতও তুলে ধরেন। বলেন, “তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ ছাত্রনেতা ছিলেন এবং ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।” তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, “ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন নেতা কীভাবে জাতীয় রাজনীতির জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠেন, মির্জা ফখরুল তার অনন্য উদাহরণ।”

তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সিজনাল রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী-আমলাদের তুলনায় ছাত্র রাজনীতি থেকে গড়ে ওঠা নেতাদের অধিক দায়বদ্ধ ও জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত বলেও উল্লেখ করেন। কাদেরের ভাষায়, “জনকল্যাণের ভাবনা, আন্তরিকতা এবং নেতৃত্বের যোগ্যতা—এসব দিক থেকেই তারা অনেক এগিয়ে।”

আব্দুল কাদের মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা ময়লার গাড়ি ভাঙচুর মামলার কথা স্মরণ করেন, যেটি ২০১২ সালের শেষের দিকে শেখ হাসিনার সরকার আমলে দায়ের হয়েছিল। তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রশ্ন তোলেন, “কেমন খেলো একটা বিষয় না!”

পোস্টে কাদের উল্লেখ করেন, মির্জা ফখরুলের হলফনামায় প্রায় ৫০টি মামলা আছে, যা তার রাজনৈতিক সংগ্রামের সাক্ষ্য। তিনি বলেন, “হাসিনার দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনামলে তিনি লড়াইটা জারি রেখেছেন, দলের হাল ধরে রেখেছেন। হয়তো তখন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সফলতা এনে দিতে পারেন নাই কিন্তু তার ত্যাগ তিতিক্ষার জায়গাটা আমাদের কাছে দৃশ্যমান ছিল।”

সবশেষে আব্দুল কাদের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে নতুন বাংলাদেশ গঠনে মির্জা ফখরুলদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন—
*“নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরদের মতো সজ্জন, ত্যাগী এবং অভিজ্ঞ প্রবীণদের খুব বেশি প্রয়োজন। আমরা আশা করব, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সর্বস্তরের জনগণ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে ভোটে জয় যুক্ত করে দেশের নতুন অগ্রযাত্রা, সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার ধারাবাহিকতাকে সচল রাখবেন।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *