দেশব্যাপী নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যে আজ বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিক জেলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ আটক করা হয়েছে। অভিযোগ—ভোট কেনার জন্য এই অর্থ বিতরণ করা হচ্ছিল।
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সবচেয়ে বড় অর্থ জব্দের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ৭৪ লাখ টাকার ব্যাগসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান (Belal Uddin Pradhan) কে সেনাবাহিনী আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে।
শরীয়তপুরেও যৌথ বাহিনীর অভিযানে সাড়ে ৭ লাখ টাকাসহ এক জামায়াত কর্মী আটক হন। কুমিল্লার মুরাদনগরে স্থানীয়দের হাতে ২ লাখ টাকাসহ আটক হন জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান হেলালী। তিনি একটি প্রাইভেটকারে নিয়ামতকান্দি গ্রামে গিয়ে গোপনে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের চেষ্টা করছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সিরাজগঞ্জ (Sirajganj)-২ আসনের কামারখন্দে জামায়াতের চার নেতাকর্মী ৭১ হাজার টাকাসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে আটক হন। যদিও পরে প্রশাসন তাদের ছেড়ে দেয়। জামায়াতের দাবি, তারা কেন্দ্র খরচের জন্য ওই টাকা বহন করছিলেন। বিপরীতে, বিএনপির লোকজন ওই টাকা ছিনতাই করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ঢাকা-৬ (Dhaka-6) আসনে থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. হাবিব ভোট কেনার সময় সূত্রাপুরে সাধারণ জনগণের হাতে আটক হন। পরে মোবাইল কোর্ট তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড প্রদান করে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সোনারগাঁয়ে জামায়াত প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার (Iqbal Hossain Bhuiyan) পক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগে দলটির এক কর্মীকে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের হাতে তুলে দেন।
জামালপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান শুভর পক্ষে নগদ টাকাসহ ৩ কর্মী জনতার হাতে আটক হন। পরবর্তীতে তারা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ভোটের আগের রাতে উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল বারী হাটে ১০ লাখ ৪৯ হাজার টাকাসহ একটি নোহা মাইক্রোবাস এবং তিনজনকে সেনাবাহিনী আটক করেছে। তারা হলেন—এনামুল হক, এমরান এবং গাড়ির চালক। তাদের দাবি, এই টাকা ফুটবল প্রতীকধারী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুল হকের (Mizanul Haque) পোলিং এজেন্টদের জন্য পাঠানো হচ্ছিল।
এছাড়া নোয়াখালীতে হ্যান্ডবিল এবং নগদ অর্থ বিতরণের অভিযোগে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সিরাজগঞ্জে এক জামায়াত নেতা টাকা বিতরণ করতে গিয়ে জনতার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান।
নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন জেলায় এমন বিপুল অর্থ ও নেতাকর্মী আটকের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।


