জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নারীদের স্বাধীনতা সংকুচিত হতে পারে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার জাহেদ উর রহমান। দলটির বিভিন্ন নেতা ও প্রার্থীদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে নারীদের চলাফেরা, পোশাক ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিয়ে যে ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে নারীরা কার্যত ঘরবন্দী হয়ে পড়তে পারেন।
বুধবার ( ১১ ফেব্রুয়ারি) জাহেদ উর রহমান তার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল ‘জাহেদ টক’ ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা.জাহেদ বলেন, যখন বলা হয় নারীরা বাইরে গেলে মাহরাম সঙ্গে থাকতে হবে, নির্দিষ্ট পোশাক বাধ্যতামূলক হবে। তখন সেটি স্বাধীনতার প্রশ্ন তৈরি করে। এসব শর্ত আরোপ করা হলে নারীদের শিক্ষা, চাকরি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে যাবে। এ ধরনের বক্তব্য কেবল ধর্মীয় দিকনির্দেশনা নয়, রাষ্ট্রীয় নীতিতে রূপ নিলে তা নারীর অধিকারকে সীমাবদ্ধ করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে সরাসরি কঠোর শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ঘোষণা না থাকলেও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। এতে দলটির অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। যদি কোনো দল ক্ষমতায় গিয়ে নির্দিষ্ট নীতি বাস্তবায়ন করতে চায়, তবে সেটি স্পষ্টভাবে ইশতেহারে উল্লেখ করা উচিত।
তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, তারা নারীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্মান নিশ্চিত করতে চান। তাদের বক্তব্যকে প্রসঙ্গভিত্তিক না দেখে আংশিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। দলের ভাষ্য অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই তারা রাজনীতি পরিচালনা করবে।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে নারী স্বাধীনতা ও ধর্মভিত্তিক আইন প্রয়োগের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, যেকোনো নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংবিধানসম্মত অধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ধর্ম, রাষ্ট্র ও নারী অধিকার নিয়ে চলমান এই বিতর্ক আগামী নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও শহুরে নারীদের মধ্যে এ বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বার্তা বাজার/এস এইচ


