ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগমুহূর্তে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (Ansar and VDP)-র অভ্যন্তরে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। রাজধানীর হাতিরঝিল থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে শহর প্রতিরক্ষা দলের (টিডিপি) দলনেতা মামুনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে প্রশিক্ষণবিহীন ৩৩০ জনকে অবৈধভাবে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত মামুনসহ সংশ্লিষ্টদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামুন বর্তমানে পলাতক এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রশিক্ষণ ছাড়াই এসব লোকজনকে দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে দায়িত্ব দেওয়ার নামে আরও ১ হাজার ১০০ টাকা করে ঘুষ নেওয়ার প্রমাণও পাওয়া গেছে।
এছাড়া চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ১৩ জন প্রশিক্ষণবিহীন ব্যক্তিকে নির্বাচনী দায়িত্বে যুক্ত করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। তাদেরও দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর গুলশান (Gulshan) থানাধীন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী মোসাম্মত শাহনাজ সুলতানা এবং ভাটারা (Vatara) থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী সামসুন্নাহারের বিরুদ্ধেও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) (DMP)। ডিবির একজন এডিসি পর্যায়ের কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে সন্দেহভাজন ভুয়া আনসার সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাহিনীর অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সারা দেশে তাদের ৫ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি সদস্য নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। আগামীকাল মাঠে নামছে ১,১৯১টি ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার বার্তা দিচ্ছে বাহিনীটি, তবে রাজধানীতে এ ঘটনায় নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


