ঢাকা-৮, পটুয়াখালী-১ ও শরীয়তপুর-২—এই তিনটি আসনের যেসব কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেসব কেন্দ্রে ভোট স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। তাঁর দাবি, এসব আসনের বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি, ভোটাররাও নির্ভয়ে উপস্থিত হতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট তিনটি আসনের বিষয়ে তারা নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। “এসবের বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ভোট হতে পারেনি। নির্ভয়ে ভোটাররা উপস্থিত হতে পারেন নাই,”—উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল জানায়, সারা দেশে যেসব অনিয়মের খবর তারা পেয়েছেন, তার একটি বিস্তারিত তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্রভিত্তিক অসংগতি, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অভিযোগ ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে দাবি তাদের।
দলটির অভিযোগ অনুযায়ী, গোপালপুরের অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে জামায়াতে ইসলামীর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী-৬ আসনে তাদের প্রার্থীর ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানানো হয়। এছাড়া ঝালকাঠী ও বরগুনার পাথরঘাটায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
শরীয়তপুরের বিভিন্ন আসনে এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং ভোটকেন্দ্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগও করেন তারা। ১১-দলীয় জোটের নেতা ও এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুর গাড়িবহরে হামলার ঘটনাও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নানা অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়। সিল মারা, জাল ভোট এবং ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে বলে দাবি করে প্রতিনিধি দল।
মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, “ওই আসনগুলোতে এখনও ভোট চলছে। কিন্তু এখনও এগুলোতে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে। আশা করছি, ওনারা পদক্ষেপ নিবেন যাতে পরিচ্ছন্ন ফলাফল জাতির সামনে আসে। এই বিশ্বাস নিয়ে আমরা এখানে এসেছি।”


