ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে “সত্যিকার অর্থেই দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস (Ivars Ijabs)। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে ভোট পরিচালনা করেছে। তবে অপতথ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব কথা বলেন তিনি। সেখানে ইভার্স ইজাবস উল্লেখ করেন, নির্বাচনকালীন পরিবেশ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক। তার ভাষায়, “সত্যিকার অর্থেই দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সামগ্রিকভাবে স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছে। প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তাদের প্রচেষ্টা দৃশ্যমান ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের মূল্যায়নে উঠে আসে, ২০০৮ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এবারের নির্বাচনও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য একটি নতুন বেঞ্চমার্ক স্থাপন করেছে। এই মানদণ্ড ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
তবে সবকিছু ইতিবাচক ছিল না বলেও জানান মিশনপ্রধান। তার মতে, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে সক্ষম হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে তারা মনে করেন।
প্রাথমিক মূল্যায়নে সামগ্রিকভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রশংসা করা হলেও, ভবিষ্যতে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে—এমন ইঙ্গিতও স্পষ্ট ছিল ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের বক্তব্যে।


