ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ করবেন। ওই দিন সকালে তাঁদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন (A M M Nasir Uddin)। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সরকার গঠন করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-এর একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গভবনে। সেখানে বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ মোট এক হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ (Dr. Sheikh Abdur Rashid)। শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের নামে ইতোমধ্যে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে তাদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার বিধান রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, কর্মদিবস হিসেবে সময় গণনা আগামীকাল থেকে শুরু হবে। ১৪, ১৫, ১৬ বা সর্বোচ্চ ১৭ তারিখের মধ্যে শপথ সম্পন্ন হবে বলে ধরা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর নির্বাচনে অংশ নেওয়া দল তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের নেতা হিসেবে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানাবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব বা নিয়োগ প্রদান করবেন। সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করে তখন নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আশা প্রকাশ করেন, তিন দিন বা সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আবার প্রয়োজনে সময় পরিবর্তন হলেও সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া আছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু তথ্য জানা গেলেও তা প্রকাশ করতে চান না। শপথ পাঠ করানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে বলেও জানান তিনি। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার অথবা তাঁদের মনোনীত কেউ শপথ পড়াতে পারেন। যদি তাঁরা মনোনয়ন দিতে না পারেন, সেক্ষেত্রে সরকার থেকে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারেন কিংবা শপথ পাঠ করাতে পারেন।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্পষ্ট করেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিই মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ পড়ান এবং তিনিই সেই দায়িত্ব পালন করবেন।


