বাংলাদেশের এবারের জাতীয় নির্বাচনকে ‘মাইলফলক অর্জন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (Asian Network for Free Elections–ANFREL)-এর চেয়ারম্যান রোহানা হেতিয়ারাসসি। রোববার সকালে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ এবং বিশ্বাসযোগ্য।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে রোহানা হেতিয়ারাসসি জানান, গত ১৫ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ঘিরে মানুষের আগ্রহ ছিল লক্ষণীয়। সেই আগ্রহের প্রতিফলন দেখা গেছে ভোটের টার্নআউটে। তার ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পর এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি আসনেই পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা এবং বডি ক্যাম ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা—যা প্রক্রিয়াগত দিক থেকে একটি নতুন সংযোজন। তবে সবকিছুই যে সন্তোষজনক ছিল, তা নয়। মাত্র ৪ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তার মন্তব্য, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল একজন নারী প্রার্থীও মনোনয়ন দেয়নি—যা প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে উদ্বেগজনক।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোটের ফল দ্রুত প্রকাশ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। একই সঙ্গে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগে যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না বলেও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে রোহানা হেতিয়ারাসসি নির্বাচন-পরবর্তী করণীয় নিয়েও মত দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা উচিত। পাশাপাশি গণনার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। যদিও সামগ্রিকভাবে এবারের ভোট গণনাকে ‘মোটাদাগে ঠিক’ বলেই অভিহিত করেন।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, নতুন সরকারের সামনে এখন বড় দায়িত্ব—জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। প্রশ্নোত্তর পর্বে পর্যবেক্ষক দল জানায়, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ (Awami League)-কে ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আবারও নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসতে হবে।


