বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে এককভাবে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি—দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নির্ধারণের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সম্ভাব্য কয়েকটি স্থান চিহ্নিতও করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি তারা। এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় (Ministry of Housing and Public Works) সূত্রে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) যমুনা ত্যাগ করার পর ভবনটি সংস্কার করে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করা হবে। এ সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ফলে শপথের পরপরই নতুন প্রধানমন্ত্রীর সেখানে ওঠা সম্ভব নাও হতে পারে—এমন আভাসও মিলছে প্রশাসনিক মহলে।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদ (National Parliament of Bangladesh)-এ সরকার গঠনের জন্য যেখানে অন্তত ১৫১টি আসন প্রয়োজন, সেখানে বিএনপি দুই শতাধিক আসনে বিজয়ী হয়ে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনের সমর্থন অর্জন করেছে। এর মধ্য দিয়ে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে এককভাবে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যায়।
নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত দল হিসেবে বিএনপির সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী—সংবিধান ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেটিই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সে হিসেবে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন—রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন এটি প্রায় নিশ্চিত হিসেবেই বিবেচিত।
এদিকে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাসভবন নির্ধারণে আগে থেকেই কাজ শুরু করেছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং তারা নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আবাসন বিষয়ে সুপারিশ জমা দেয়। মূলত গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটেই নতুন করে আবাসন নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আসে।
তবে সেই কমিটির সুপারিশ শেষ পর্যন্ত বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন চূড়ান্ত করতে আরেকটি কমিটি গঠন করে। তারা শেরেবাংলা নগরে দুটি সম্ভাব্য স্থান বিবেচনায় আনে—সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তুলনায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে বেশি উপযোগী মনে করা হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী কিছু প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপও চলছিল।
পরে বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও উত্থাপন করা হয়। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদ এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে তা নির্বাচিত সরকারের ওপরই ছেড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত যমুনাকেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে—যা এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।


