অন্তর্বর্তী আমলে ১৩০ আইন, ৬০০ নির্বাহী আদেশ জারি

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus)-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া নয়টায় জাতির উদ্দেশে বিটিভিতে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

ভাষণে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেয়ালে দেয়ালে তরুণরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এঁকেছিল, তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। সেই প্রত্যাশা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর বড় অংশই ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

‘এই সংস্কারসমূহ নাগরিক অধিকারকে সংহত করেছে, বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে এবং গু’\ম, খু’\ন ও বিচারবহির্ভূত হ’\ত্যার সংস্কৃতি যেন আর কখনো ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করেছে’— বলেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর। অনেক থানাই ছিল কার্যত পুলিশশূন্য। জনগণের মধ্যে আস্থার জায়গায় তৈরি হয়েছিল ভয় ও শঙ্কা। ধাপে ধাপে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পুলিশ আর মারণাস্ত্র ব্যবহার করে না, বেআইনিভাবে কাউকে তুলে নিয়ে যায় না, ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হ’\ত্যা করে না। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ভয়ে কাউকে আর ‘ডিলিট বাটন’ চাপতে হয় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও কার্যকর করতে পৃথক সচিবালয় গঠন, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ কাঠামো প্রণয়ন এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে যুগান্তকারী সংস্কারের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। সেপারেশন অব জুডিশিয়ারি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাজদার হোসেন মামলার রায় কার্যকর করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া গু’\মকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন (International Crimes Tribunal Act) সংশোধন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে রায় সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ এবং অন্তর্বর্তী আপিলের বিধান সংযোজনের কথাও বলেন।

বাংলাদেশ যেন আর কখনো মানবাধিকারহীন রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সে লক্ষ্য সামনে রেখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি এবং কমিশন গঠনের কথাও বিদায়ী ভাষণে উল্লেখ করেন মুহাম্মদ ইউনূস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *