ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দেশ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই নতুন সংসদের পথচলা শুরু হলো।
মঙ্গলবার সকালে শপথপাঠ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এ সময় তেলাওয়াত করা হয় পবিত্র আল কুরআনের সুরা আন নাহলের ৯১ নম্বর আয়াত। আয়াতটি হলো—
وَ اَوۡفُوۡا بِعَهۡدِ اللّٰهِ اِذَا عٰهَدۡتُّمۡ وَ لَا تَنۡقُضُوا الۡاَیۡمَانَ بَعۡدَ تَوۡكِیۡدِهَا وَ قَدۡ جَعَلۡتُمُ اللّٰهَ عَلَیۡكُمۡ كَفِیۡلًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَعۡلَمُ مَا تَفۡعَلُوۡنَ
এর অর্থ: আর তোমরা আল্লাহ্র অঙ্গীকার পূর্ণ কর যখন পরস্পর অঙ্গীকার কর এবং তোমরা আল্লাহ্কে তোমাদের জামিন করে শপথ দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ্ জানেন যা তোমরা কর।
এই আয়াতের মর্মার্থে স্পষ্টভাবে উঠে আসে অঙ্গীকার রক্ষার বাধ্যবাধকতা। কোনো বিষয়ে শপথ করার পর তা রক্ষা করা যে অপরিহার্য—এই নির্দেশনা আয়াতটিতে সুস্পষ্ট। তবে যদি কেউ কোনো কাজ না করার শপথ করে, অথচ সেই কাজটি হালাল ও উত্তম হয়, সেক্ষেত্রে উত্তম কাজটি সম্পাদন করা সুন্নাত। পাশাপাশি শপথ ভঙ্গের জন্য কাফফারা আদায় করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, আল্লাহ চাহে তো যখনই এমন কোন কাজের শপথ করি, তারপর এর বিপরীতে এর চেয়ে ভাল দেখি, তখনই আমি ভাল কাজটি করি এবং শপথের কাফফারা দেই।” [বুখারী: ৬৬২১; মুসলিম: ১৬৪৯]
এই আয়াত তেলাওয়াতের মধ্য দিয়েই ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের শপথপাঠ শুরু হয়। বিকাল চারটার দিকে মন্ত্রীসভার সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন অধ্যায়।


