শপথে দ্বৈত দায়িত্বে এনসিপির এমপিরা, থাকছেন সংবিধান সংস্কার পরিষদেও

শপথ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party)-এনসিপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রার দিনে তারা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই নয়, একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেছেন—যা রাজনৈতিক পরিসরে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথগ্রহণ কক্ষে প্রথমে তাদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন (A M M Nasir Uddin)। শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষে একই স্থানে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। এ ক্ষেত্রেও শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ফলে নতুন সংসদে তাদের ভূমিকা কেবল আইন প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; সংবিধান সংশোধনের আলোচনাতেও তারা সরাসরি যুক্ত থাকছেন।

এর আগে একই দিনে বেলা ১১টার কিছু আগে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-এর সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। দুপুর সোয়া ১২টার পর শপথ নেন জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)-এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। ধারাবাহিক এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। এনসিপি জয় পেয়েছে ৬টি আসনে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। বাকি সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার স্পষ্ট চিত্রের মধ্যেই নতুন সংসদের পথচলা শুরু হলো—যেখানে আইন প্রণয়ন ও সম্ভাব্য সংবিধান সংস্কার, দুই ক্ষেত্রেই নবনির্বাচিত সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের অপেক্ষা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *