ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো আনুষ্ঠানিক আভিজাত্য আর রাজনৈতিক গুরুত্বের আবহে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (Mohammad Shahabuddin)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। সাক্ষাতে তারা পরস্পরের কুশল বিনিময় করেন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রার এই মুহূর্তে তাদের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে একই দিন বিকাল ৪টা ১২ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় লাভের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের সাংবিধানিক অধিকার অর্জন করে, আর সেই ধারাবাহিকতায় আজকের শপথ ও সাক্ষাৎ নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়ের সূচনা করে।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধিরা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গন থেকেও ছিল নজরকাড়া উপস্থিতি—ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের আঞ্চলিক গুরুত্বকেও সামনে আনে।
একইসঙ্গে সংসদীয় দলের নেতা হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় সংসদীয় দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদীয় দলের নেতা—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত করা হয়। এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। তারেক রহমানসহ নবনির্বাচিত এমপিরা শপথ নেওয়ার পরপরই সংসদীয় দলের বৈঠকে বসেন।
শপথগ্রহণ শেষে সংসদ সদস্যরা শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন, যার মধ্য দিয়ে নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথ সুগম হয়। দিনব্যাপী এই ধারাবাহিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।


