প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে ডা. জাহেদের নাম ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং বিএনপি (BNP) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir)-এর মেয়ের জামাই ফাহাম আব্দুস সালাম (Faham Abdus Salam)।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ডা. জাহেদকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং সাম্প্রতিক নিয়োগ-পরবর্তী ‘সেন্টিমেন্ট’ নিয়ে কথা বলেন।
পোস্টে ফাহাম আব্দুস সালাম লেখেন, ডা. জাহেদের অসংখ্য ভিডিওর নিচে হয়তো একই মন্তব্য লাখোবার দেখা গেছে—‘জাহেদ তুমি বিএনপির দালাল’। তার ভাষ্য, এখন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আর এর পরপরই অনেকে বলছেন—‘হায় আল্লাহ! এই জাহেদকেই এতদিন আমরা নিরপেক্ষ মনে করেছিলাম, অথচ সে ছিল গুপ্ত।’ এই প্রতিক্রিয়াকে তিনি ‘বিট্রেয়াল’ অনুভূতি হিসেবে তুলে ধরেন।
নিজের লেখায় ফাহাম বলেন, সমাজে ‘কম্পিটেন্স’ বা সক্ষমতা নামের বিষয়টিকে গ্রহণ করার মতো প্রস্তুতি খুব কমই আছে। তার মতে, প্রবাসে কোনো বাংলাদেশি বড় অর্জন করলে মানুষ গর্বিত হয়, তার জন্য দোয়া করে। কিন্তু দেশের ভেতরে ‘ওয়ান অব আস’—অর্থাৎ নিজেদের ভেতরের কেউ—যদি হঠাৎ বিখ্যাত হয়ে ওঠে বা উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন অনেকে সেটিকে ব্যক্তিগত বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে নেয়। তার ভাষায়, এই অনুভূতিটা অনেক সময় ‘ভিসেরাল’, অর্থাৎ গভীর ও তীব্র।
ফাহাম আরও লেখেন, আমাদের সমাজে নিজেদের ভেতরের কারও সক্ষমতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়ে ‘হিংসা’ ছাড়া অন্য কোনো ঐকমত্য নেই বললেই চলে। সফল ও বিখ্যাত হওয়ার আগেই প্রমাণ করে রাখতে হয় যে আপনি ‘ওয়ান অব আস’ নন—তা না হলে সমালোচনা, সন্দেহ ও আক্রমণের মুখে পড়তে হয়।
তিনি দাবি করেন, অনেকে মনে করেন এই সামাজিক প্রবণতার ব্যাখ্যা তারা জানেন, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি আরও গভীর। বাংলার সমাজে হিংসার ব্যাপ্তি কতটা—তা নিজেরা বিখ্যাত বা সফল না হলে বোঝা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে ফাহাম আব্দুস সালাম লেখেন, উপার্জনকে ‘ব্লাড মানি’ মনে করার মতো মানসিক প্রস্তুতি পৃথিবীর আর কোথাও এত সহজে দেখা যায় কি না, তা তার জানা নেই। তার মতে, অনেক সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও অর্জন বিসর্জন দিয়ে ওপরে উঠতে হয়। তিনি বলেন, ‘ভাত’ ও ‘হিংসা’—এই দুই চালিকাশক্তি দিয়েই আমাদের অন্তত ৯০ শতাংশ কর্মকাণ্ড ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
ডা. জাহেদের উপদেষ্টা পদে নিয়োগ এবং এ নিয়ে সামাজিক প্রতিক্রিয়া ঘিরে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।


