বাংলাদেশে একজন সংসদ সদস্য শুধু আইন প্রণেতা নন, রাষ্ট্র কাঠামোর ভেতরে একটি প্রভাবশালী অবস্থানের অধিকারীও। বেতন-ভাতা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক প্রভাব—সব মিলিয়ে একজন এমপির হাতে থাকে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতার পরিধি।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য যে নির্ধারিত আর্থিক সুবিধাগুলো পান, তার মধ্যে রয়েছে—
- মাসিক বেতন ৫৫,০০০ টাকা
- নির্বাচনী এলাকার ভাতা প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা
- সম্মানী ভাতা প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা
- শুল্কমুক্তভাবে গাড়ি আমদানির সুবিধা
- মাসিক পরিবহন ভাতা ৭০,০০০ টাকা
- নির্বাচনী এলাকায় অফিস খরচ বাবদ প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা
- মাসিক লন্ড্রি ভাতা ১,৫০০ টাকা
- ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ কেনার জন্য মাসিক ভাতা ৬,০০০ টাকা
- দেশের অভ্যন্তরে বার্ষিক ভ্রমণ খরচ ১,২০,০০০ টাকা
- স্বেচ্ছাধীন তহবিল হিসেবে বছরে পাঁচ লাখ টাকা
- বাসায় টেলিফোন ভাতা বাবদ প্রতি মাসে ৭,৮০০ টাকা
- সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদ ভবন এলাকায় এমপি হোস্টেলের সুবিধা
এর বাইরে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একজন সংসদ সদস্য প্রতিবছর চার কোটি টাকা করে থোক বরাদ্দ পেয়েছেন। এর আগে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল দুই কোটি টাকা। অর্থাৎ সময়ের ব্যবধানে এই বরাদ্দ দ্বিগুণ হয়েছে।
নির্ধারিত ভাতার বাইরেও প্রভাবের বিস্তার
আইন অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের প্রধান দায়িত্ব আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখা। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি অনেক বিস্তৃত। নির্ধারিত বেতন-ভাতা পাওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় তারা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (Transparency International Bangladesh)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা হচ্ছে আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখা। কিন্তু এ ক্ষমতাটি ক্রমাগতভাবে প্রশাসনিক এবং নির্বাহী ক্ষমতায় রূপান্তরিত হয়েছে।’
তার মতে, স্থানীয় পর্যায়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি, বয়স্ক ভাতা এবং নানা ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা-বেষ্টনীসহ প্রায় ৪০ ধরনের প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের সুবিধাভোগী নির্ধারণে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততাও দৃশ্যমান।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রেও অনেক সংসদ সদস্যের একচ্ছত্র আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দু’\র্নী’\তি গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে বহু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ওপর সংসদ সদস্যদের প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, একজন সংসদ সদস্যের ভূমিকা কেবল সংসদ কক্ষে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার প্রভাব বিস্তৃত থাকে নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রশাসনিক কাঠামোর নানা স্তর পর্যন্ত।


