বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রামেন্টো শহরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশসহ একাধিক দেশে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর পেশাদার কূটনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় তিনি বাংলাদেশের মানুষের পাশে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন। স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের শাসনের অবসান ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সময়ে তাঁর অবস্থান বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইট টু ফ্রিডম’, সাউথ এশিয়া পার্সপেক্টিভস (এসএপি) এবং উইলসন সেন্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট ও সরব।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের পর তিনি পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে (১৯৯৮–২০০১) দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে লাইবেরিয়ায় (১৯৯৫–১৯৯৮) রাষ্ট্রদূত থাকাকালে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ভূমিকা রাখেন। তাঁর দায়িত্বকালে সেখানে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নতুন গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
নাইন ইলেভেনের পর তাঁকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ডাকা হয়। আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে তিনি কাজ করেন। পাশাপাশি লিবিয়ার ত্রিপোলিতে অন্তর্বর্তীকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি স্টেট ডিপার্টমেন্টের জেমস ক্লিমেন্ট ডান অ্যাওয়ার্ড, সুপিরিয়র অনার অ্যাওয়ার্ড এবং প্রেসিডেন্সিয়াল মেরিটোরিয়াস সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক সম্মাননা লাভ করেন। তাঁর সততা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ এসব পুরস্কার প্রদান করা হয়।
উইলিয়াম বিল মাইলামের প্রয়াণকে সংশ্লিষ্টরা এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ হারাল এক অকৃত্রিম বন্ধুকে।


