দলীয় ও রাজনৈতিক সংকীর্ণতার গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman)। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর (Mirpur)-১৩ নম্বরে এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলধারায় আনার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একদিন এতিমদের মধ্য থেকেও কেউ প্রধানমন্ত্রী হবেন।” তার ভাষায়, এটি কেবল আবেগঘন বক্তব্য নয়; বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন। তিনি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে—যেখানে আর্থসামাজিক অবস্থান নয়, যোগ্যতা ও নৈতিকতাই নেতৃত্বের মানদণ্ড হবে।
বিরোধী দলের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াত সরকারকে অকারণে বিরোধিতা করবে না। বরং সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করবে এবং একইসঙ্গে ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। তার মতে, গণতন্ত্রের স্বার্থে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের বিকল্প নেই।
গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নেও তিনি সরব হন। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর কয়েকজন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করার ঘটনা গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি ও নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের শামিল। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল—রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের ভারসাম্য ও স্বাধীনতা রক্ষা না হলে গণতন্ত্র কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে।
রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় প্রতিহিংসা নয়, বরং মূল্যবোধভিত্তিক নেতৃত্বই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। এতিমদের ইফতার মাহফিলের মতো একটি মানবিক আয়োজন থেকে উঠে আসা এই রাজনৈতিক বার্তা উপস্থিতদের মধ্যে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।


