শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে: স্পষ্ট বার্তা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-কে দিল্লি থেকে দেশে ফেরাতে আগের কূটনৈতিক প্রক্রিয়াই অব্যাহত রাখবে সরকার—এমনটাই জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ (Shama Obaed)। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে নানা ইস্যু রয়েছে, এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা চলমান থাকবে। তার ভাষায়, সম্পর্ক মানেই কেবল সৌজন্য নয়—স্বার্থ, সমঝোতা এবং আলোচনার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সরকারের নতুন অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে শক্ত অবস্থানে থেকেই সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব রক্ষা করবে বাংলাদেশ।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরানোর বিষয়ে গত বছর নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার দিল্লিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়। দুই দেশের বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত চাওয়া হয়। তবে সেই চিঠির জবাব এখনও দেয়নি ভারত (India)। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালেও শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দুই দফা কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs)।

বিএনপি (BNP) সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এবার নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করলেন, আগের সব প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বিষয়টি কেবল একটি আইনি বা রাজনৈতিক প্রশ্ন নয়—এটি এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিও নতুন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, “সব দেশের সাথেই তো আমাদের ইস্যু আছে। এগুলো সমাধানের জন্য আমাদের দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয়ভাবে এগোতে হবে। আমরা এগোবো। আগেই বলেছি, সব রাষ্ট্রের সাথে, সব সরকারের সাথে আমাদের সম্পর্ক থাকবে—আমাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করে। অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটা দেখবে। যেহেতু এই প্রক্রিয়া চলমান আছে, এটি চালিয়ে নিতে হবে।”

তার বক্তব্যে স্পষ্ট, নতুন সরকার কূটনীতিতে আপসের চেয়ে ভারসাম্য ও আত্মমর্যাদাকেই প্রাধান্য দিতে চায়। তিনি আরও বলেন, এখন থেকে পুরো বিশ্বকেই বাংলাদেশ (Bangladesh)-কে ভিন্ন চোখে দেখতে হবে।

“অনেক দিন পর বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের পররাষ্ট্রনীতি যেমন হওয়া উচিত, মেরুদণ্ড সোজা করে সব রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রেখে বন্ধুত্ব রাখা হবে। সবাইকেই ভিন্ন নজরে দেখতে হবে,”—বলেন তিনি।

এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দেশে ভিসা জটিলতা নিরসনেও কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *