ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়েছেন। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৯৬ জন এমপির শপথগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সেই আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়েই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলেও এখন মূল প্রশ্ন—কবে বসছে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন? ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে অধিবেশন ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।
জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) আহ্বানের প্রক্রিয়া ও সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশের সংবিধান (Constitution of Bangladesh)-এ। সংবিধানের পঞ্চম ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে, সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতি (President)। প্রথম বৈঠক কখন এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সেই সিদ্ধান্তও তাঁর মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।
তবে এই ক্ষমতা এককভাবে প্রয়োগের সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী লিখিতভাবে যে পরামর্শ দেবেন, রাষ্ট্রপতিকে সে অনুযায়ীই অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। অর্থাৎ সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরেই নির্বাহী ও রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা নির্ধারিত।
সময়ের প্রশ্নেও রয়েছে নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর উপধারায় উল্লেখ আছে, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের বৈঠক আহ্বান করতেই হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের সরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসাবে আগামী ১৬ মার্চের মধ্যেই ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ পবিত্র রোজার মাসের মধ্যেই বসতে যাচ্ছে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন।
এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নজর সেই অধিবেশনের দিকেই—নতুন সংসদে কী বার্তা আসবে, কীভাবে শুরু হবে আইন প্রণয়নের কার্যক্রম, আর কেমন হবে আগামী দিনের সংসদীয় কার্যক্রম—এসব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।


