পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বিতর্কে সড়কমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান তাহেরীর

পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। তিনি মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তাহেরী এ বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘চাঁদা এক ধরনের জুলুম— হোক সমঝোতার ভিত্তিতে কিংবা জোর-জবরদস্তির ভিত্তিতে। আপনার বক্তব্যে চাঁদাবাজি উৎসাহ পেতে পারে। আশা করছি, সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রী বক্তব্যটি প্রত্যাহার করবেন। জয় হোক মানবতার।’

এর আগে একই দিন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন শেখ রবিউল আলম (Sheikh Robiul Alam)। পরিবহন খাতে অর্থ আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে যে অর্থ তোলা হয়, সেটিকে তিনি ‘চাঁদাবাজি’ মনে করেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অর্থ মালিক-শ্রমিকদের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এবং একটি অলিখিত বিধি মেনে তাদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়।

মন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন, চাঁদাবাজি বলতে তিনি এমন পরিস্থিতিকে বোঝান যেখানে কেউ স্বেচ্ছায় টাকা দিতে চায় না, কিন্তু তাকে বাধ্য করা হয়। পক্ষগুলোর সমঝোতার ভিত্তিতে অর্থ আদায় হলে সেটিকে চাঁদাবাজি বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন, ‘মন্ত্রীর কথা নিরপেক্ষভাবে ভাবতে হবে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর অনুদান কখনো চাঁদাবাজি হবে না। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতির আলোকে আরেকটু ঠান্ডা মাথায় বক্তব্য দিলে মন্ত্রীরই ভালো হতো।’

অন্যদিকে, মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী (Mufti Gias Uddin At Taheri)-এর ওই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বিষয়টি ঘিরে বিভিন্ন মহলে পক্ষে ও বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কারও মতে, বক্তব্যটি বাস্তবতার প্রতিফলন; আবার কেউ মনে করছেন, এমন ব্যাখ্যা বিতর্ক আরও উসকে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *