তারেক রহমানকে ঘিরে ছাত্রদল নেতা তারিকের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। তাঁর নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনাকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও আবেগের সঞ্চার হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হৃদয়ছোঁয়া এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (Jatiyatabadi Chhatra Dal)-এর কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।

নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতীক্ষার কথা স্মরণ করেন। লিখেছেন, ‘আমাদের অগণিত রাত নির্ঘুম কেটেছে। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে অনিশ্চিত জীবনের প্রহর গুনতে গুনতে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর দরবারে একটাই প্রার্থনা ছিল— আমাদের রক্ত, আমাদের ঘাম এমনকি আমাদের জীবনের বিনিময়ে হলেও বাংলার পবিত্র মাটিতে অন্তত একবার যেন পদার্পণ করেন বাংলার লুথার কিং, রাজনীতির প্রমিথিউস, আপোসহীন সংগ্রামের দিকপাল, সংকটের দুর্দম নাবিক, গণতন্ত্রের নবযাত্রার অগ্রসেনানী, ১৮ কোটি মানুষের আবেগ, উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসার অবিচ্ছেদ্য নাম—বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান।’

তিনি আরও লেখেন, বহুদিন ধরে হৃদয়ের গভীরে লালিত এক আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁকে সামনে থেকে একনজর দেখার। সেই প্রতীক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ অবশেষে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পোস্টে তারিক লিখেছেন, ‘প্রবাদপ্রতিম এই দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের সান্নিধ্যে থাকার বিরল সৌভাগ্য অর্জন করলাম। স্বপ্নের মতো তাঁর পাশে দাঁড়ানো, হাতে হাত রাখা—সবই যেন বাস্তবের উজ্জ্বল প্রভাতে রূপ নিল।’

জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের কাছে এই মুহূর্ত কেবল একটি সাক্ষাৎ নয়, বরং এক অনির্বচনীয় প্রাপ্তি—এমন মন্তব্যও করেন ছাত্রদল নেতা। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা যারা জাতীয়তাবাদী আদর্শের আদর্শিক সন্তান, আমাদের কাছে এটি কেবল একটি মুহূর্ত নয়—এটি এক অনির্বচনীয় প্রাপ্তি, এক অমৃতসম অর্জন, এক অনুপ্রেরণার দীপশিখা। তাঁর সাহসী নেতৃত্ব, অবিচল মনোবল ও আপোসহীন সংগ্রামী চেতনা আমাদের পথচলার প্রেরণার উৎস হয়ে থাকুক চিরকাল। মহান আল্লাহ আমাদের আদর্শিক অভিভাবককে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুক… আমিন।’

পোস্টের শেষাংশে ব্যক্তিগত একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন মো. তরিকুল ইসলাম তারিক। তিনি জানান, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি হাতে আঘাত পান। আঘাত পাওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এমনকি বিদায়ের মুহূর্তেও তাঁর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন।

তারিক লিখেছেন, ‘আঘাত প্রাপ্তির পর থেকেই বারংবারই খোঁজ-খবর নিচ্ছিলেন তিনি। এমনকি উনাকে যখন শেষ বাসায় বিদায় দিতে যায় তখনও তিনি খোঁজ নিয়েছিলেন এবং ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ ভাইকে ডেকে বলেছিলেন, আমান, তারেকের প্রোপার ট্রিটমেন্ট করাও।’

একজন কর্মীর আঘাত যার হৃদয়কে এভাবে নাড়া দেয়, তিনিই প্রকৃত নেতা—এমন মন্তব্য করে পোস্টটি শেষ করেন ছাত্রদল নেতা। তাঁর ভাষায়, ‘কর্মীর আঘাত যার হৃদয়কে এভাবে নাড়া দেয় সেইতো প্রকৃত নেতা। অনেক অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি আপনাকে শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় তারেক রহমান ভাইয়া।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *