বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চায় ভারত। ঢাকার সঙ্গে আবারও উষ্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলাই নয়াদিল্লির অগ্রাধিকার—এমনটাই জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। শুক্রবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বহুমুখী সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভারত ইতিবাচক ও আগ্রহী।
সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে ভিসা নীতিতে শিথিলতার সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দেন তিনি। ভিসা সহজীকরণ সম্পর্কোন্নয়নের প্রথম ধাপ কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সব বিষয় নিয়েই নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনা হবে। ভারতের লক্ষ্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।
এর আগেই ভারত জানিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে বসে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করবে। ভোটের আগে থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হচ্ছিল। জয়সোয়াল জানান, নির্বাচনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) বাংলাদেশের ভাবি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-কে অভিনন্দন জানান। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। তিনি তারেক রহমানের হাতে মোদির লেখা একটি চিঠি তুলে দেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ দেখতে আগ্রহী। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানানো হয়। জয়সোয়াল আরও জানান, শপথের দিন তারেক রহমানের সঙ্গে ওম বিড়লার একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ভারতে মৌলবাদের বিস্তার নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জয়সোয়াল। বরং তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সর্বাঙ্গীন সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে চায়।
এরই মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থেকে দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে সব ধরনের ভিসা সেবা পুনরায় চালু হয়েছে। প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে (India Today)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপকে দুই দেশের সম্পর্কে জমে থাকা অচলাবস্থা কাটানোর প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নয়াদিল্লির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নতুন সরকার দ্রুত ইতিবাচক বার্তা দিতে চেয়েছে।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে পর্যটন, চিকিৎসা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান—সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালু হয়েছে। ডিসেম্বরের নিষেধাজ্ঞার সময় ব্যবসা ও কাজের ভিসা আংশিকভাবে চালু থাকলেও এখন সব ক্যাটাগরিই স্বাভাবিক হয়েছে।
অন্যদিকে, সিলেটে ভারতের জ্যেষ্ঠ কনস্যুলার কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস একদিন আগে জানান, বাংলাদেশিদের জন্যও শিগগির পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা চালু করবে ভারত। বর্তমানে চিকিৎসা ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হলেও অচিরেই ভ্রমণসহ অন্যান্য ভিসাও স্বাভাবিক করা হবে।
সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে ওম বিড়লা ঢাকায় তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং বৈঠক করেন। সেখানে মোদির আমন্ত্রণপত্রও হস্তান্তর করা হয়। সব মিলিয়ে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক বার্তা বিনিময় নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে—যেখানে সম্পর্কোন্নয়নই প্রধান এজেন্ডা।


