একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। রাতের নীরবতা ভেঙে যখন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে একে একে শ্রদ্ধার ফুল জমা হতে থাকে, তখন তিনি শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন এবং দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন। মুহূর্তটি ছিল সংযত, গম্ভীর এবং ইতিহাসস্মৃতিতে ভারী।
এরপর দ্বিতীয় দফায় তিনি আবারও শহীদ মিনারে যান—এবার সঙ্গে ছিল পারিবারিক উপস্থিতি। সাবেক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia)-এর পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান (Zubaida Rahman) ও কন্যা জাইমা রহমান (Zaima Rahman)। পারিবারিক এই উপস্থিতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আবহকে আরও আবেগঘন করে তোলে।
ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোকে কেন্দ্র করে পুরো শহীদ মিনার এলাকা ঢেকে ফেলা হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায়। শ্রদ্ধানুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে শুক্রবার দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka) এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা ছিল নিয়ন্ত্রিত ও সুরক্ষিত।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি—বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মিছিলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে পুলিশের গু’\লি চালানো হয়। সেই দিন প্রাণ হারান সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা আরও অনেকে। রক্তে রঞ্জিত সেই পথই পরবর্তীতে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়।
ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের পর বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা, প্রতিবাদ আর আত্মত্যাগের চেতনা থেকেই ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। একুশ তাই কেবল শোকের দিন নয়—এটি আত্মপরিচয়, অধিকার এবং জাতিসত্তার ভিত্তি নির্মাণের প্রতীক।


