মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাত ১২টা ২২ মিনিটে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি।
শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলীয় অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তাঁরা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন এবং ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাল। ২০০১ সাল থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর সরকারে শরিক অবস্থায় দলটির মন্ত্রীরা রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলেন, তবে সে সময় তাঁরা শহীদ মিনারে যাননি।
এই প্রথমবারের মতো ফুল দিতে আসা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, জামায়াত অতীতে শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসেনি—এবার কেন এলেন?
প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমানকে কিছুটা বিব্রত দেখা যায়। তিনি বলেন, “এটা রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে, বিরোধী দলের নেতা হিসেবে এটা দায়িত্ব। দায়িত্ব হিসেবে এখানে আসতে হবে, সঙ্গীদের নিয়ে আসতে হবে—তাই আমি এসেছি।”
পরে আরেকটি প্রশ্ন করা হয়, জামায়াত কি এখনো শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া “নাজায়েজ” মনে করে? তবে এই প্রশ্নের কোনো সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। বরং প্রশ্নকর্তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “আজকে এ সময় এমন প্রশ্ন কেন করা হলো?” এবং এ ধরনের প্রশ্ন না করার পরামর্শ দেন।
এদিকে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলে একদল যুবক তাকে উদ্দেশ্য করে ‘রাজাকার, রাজাকার’, ‘একাত্তরের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘একাত্তরের রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এর প্রতিক্রিয়ায় সেখানে উপস্থিত জামায়াতের নেতা-কর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন। জামায়াত কর্মীরা ‘ভাষা সৈনিক গোলাম আযম, লও লও লও সালাম’ স্লোগান দিলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সময় একটু দূরেই ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ জোটের সংসদ সদস্যরা। হট্টগোল শুরু হলে এনসিপির নেতারা দ্রুত আমিরের গাড়ির কাছে ফিরে আসেন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পরে ডা. শফিকুর রহমান ও জোটের নেতারা শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।


