তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন (Zahir Uddin Swapan) এমপি জানিয়েছেন, সরকার ইতোমধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার তারেক রহমানের সরকার। আমরা যে পরিকল্পনা নিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করেই দেখাতে চাই।”
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় নিজ নির্বাচনী এলাকা গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের কাপলাতলী এলাকায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, শিল্পায়নের বিস্তারের ফলে দেশে বনায়ন ও সবুজায়নের পরিমাণ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর। পরিবেশগত এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় খাল খননের পাশাপাশি খালের দুই পাশে সমন্বিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, “খাল খনন শুধু পানি নিষ্কাশনের জন্য নয়, এটি পরিবেশ রক্ষারও একটি অংশ।”
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান (Tarique Rahman) দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফেরার মাত্র ৫৭ দিনের মধ্যেই জনগণ তাকে প্রধানমন্ত্রী ও জাতির নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে। মন্ত্রী দাবি করেন, ক্ষমতায় আসার আগেই তারেক রহমান যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সেই অগ্রাধিকারের তালিকায় খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অন্যতম।
তিনি বলেন, “আজ যে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হলো, তা সেই বৃহৎ পরিকল্পনারই অংশ। আমরা চাই, গ্রামবাংলার জলাবদ্ধতা দূর হোক, কৃষি উৎপাদন বাড়ুক এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাক।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিএডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চঞ্চল কুমার মিস্ত্রি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (Bangladesh Agricultural Development Corporation – BADC) বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ, উপজেলা কৃষি অফিসার সেকেন্দার শেখ, মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল, বরিশাল বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী এসএম আতাই রাব্বি এবং গৌরনদী বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী শাহেদ আহমেদ চৌধুরীসহ অন্যান্যরা।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তারা মত দেন।


