আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ভোট গ্রহণ হবে কি না—এই প্রশ্নে এখনো স্পষ্টতা নেই। বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ভর করছে জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর। নির্বাচন কমিশন (Election Commission) জানিয়েছে, বর্তমান সংসদে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party) সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় দলীয় প্রতীকের বিধান বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে কার্যত দলটির অবস্থানই নির্ধারক হয়ে উঠেছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ (Abdur Rahmanel Masud) বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, শুধু মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন নয়, সংরক্ষিত নারী আসন এবং স্থগিত উপনির্বাচন নিয়েও কমিশনের প্রস্তুতি চলছে।
মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের বিধান অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘আমার জানামতে, অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে মেয়র প্রার্থী পদে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদ বসবে। সংসদ বসার পর এই বিল বা অর্ডিন্যান্স যদি রেটিফাই (অনুমোদন) হয়, তবে সেভাবেই নির্বাচন হবে। আর যদি পরিবর্তন হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তবে অন্য রকম হবে। আমরা মূলত সংসদ অধিবেশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি।’
অর্থাৎ, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি থাকলেও চূড়ান্ত কাঠামো নির্ভর করছে জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এর ওপর। সংসদে অর্ডিন্যান্স অনুমোদিত হলে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হতে পারে, আর আগের বিধান বহাল থাকলে দলীয় প্রতীকেই ভোট হবে—এমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে কমিশনের বক্তব্যে।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়েও কমিশন কাজ শুরু করেছে। আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, এই প্রক্রিয়া কার্যত শুরু হয়ে গেছে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো যাদের মনোনীত করবে, তারাই মূলত নির্বাচিত হবেন। সংশ্লিষ্ট দলগুলো ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিধি অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কমিশন সেই সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে স্থগিত উপনির্বাচনগুলো নিয়েও কমিশন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সিদ্ধান্তের দিকে নজর এখন নির্বাচন কমিশনের। সংসদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে—দলীয় প্রতীক থাকবে, নাকি বদলে যাবে নির্বাচনী সমীকরণ।


