কক্সবাজারের ডলফিন মোড়ে এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (Chittagong Medical College Hospital)-এ আনা হয়।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন— আবু তাহের, সিরাজ, আব্দুর রহিম, সাকিব, মোতাহের ও আবুল কাশেম। বর্তমানে তারা চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. রাশেদ উল করিম জানান, হাসপাতালে ভর্তি ছয়জন পুরুষ রোগীর প্রত্যেকেরই শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাদের মধ্যে একজনের শরীরের ৯০ শতাংশ, একজনের ৫০ শতাংশ, একজনের ৪০ শতাংশ, একজনের ৩০ শতাংশ এবং বাকি দুইজনের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
তিনি আরও জানান, ৫০ শতাংশ ও ৯০ শতাংশ দগ্ধ দুই রোগীর জন্য ইতোমধ্যে আইসিইউতে বেড বরাদ্দ দিয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদের অবস্থাও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাদেরও আইসিইউ সাপোর্টে নেওয়া হবে। জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করেই প্রত্যেকের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এন আলম এলপিজি ফিলিং স্টেশন (N Alam LPG Filling Station)-এ। বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের একটি গ্যারেজে, যেখানে থাকা প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পর্যটকবাহী জিপ গাড়ি পুড়ে যায়। এছাড়া আশপাশের অন্তত ১০টি ঘরবাড়িও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস (Fire Service) সূত্রে জানা গেছে, স্টেশনের ১৪ হাজার লিটারের একটি গ্যাস ট্যাঙ্ক থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল। সেখান থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই কক্সবাজার (Cox’s Bazar) জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এবং আগুনের দ্রুত বিস্তার স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ধারণের কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


