রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় রাজবাড়ী (Rajbari) অঞ্চলে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি অবশেষে দৃশ্যমান হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার ক্রেনের সাহায্যে বাসটির সামনের অর্ধেক অংশ পানির নিচ থেকে উপরে তোলা হয়, যা পুরো ঘটনায় নতুন করে শোকের আবহ তৈরি করেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদীর গভীর থেকে বাসটির সামনের অংশ উদ্ধার করা হলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস (Fire Service) এর ডুবুরি দলকে একের পর এক মরদেহ বের করতে দেখা যায়। প্রতিটি মুহূর্ত যেন উপস্থিত মানুষের কাছে একেকটি অসহনীয় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়।
উদ্ধারের সময় দেখা গেছে, বাসটির দরজা সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। পানির ভেতর থেকে ভেসে উঠেছে যাত্রীদের ব্যবহৃত নানা জিনিসপত্র—স্কুল ব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ অন্যান্য সামগ্রী। এসব ছড়িয়ে থাকা জিনিস যেন নিখোঁজ মানুষের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রমকে সহায়তা করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তার অসহনীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজবাড়ী থেকে তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, ভাগ্নি এবং ভাগ্নির ছেলে সৌহার্দ্য পরিবহন বাসে উঠেছিল। ফেরিঘাটে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেলে তার স্ত্রী, মেয়ে এবং ভাগ্নি স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন। কিন্তু তার সাত বছরের ছেলে এবং এগারো বছরের ভাগ্নে এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
ক্ষোভ ও শোকে ভেঙে পড়ে শরিফুল বলেন, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা আসার পরও যথাসময়ে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়নি বলে তার অভিযোগ। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ছেলে ও ভাগ্নে তো আর নেই, এখন তাদের লাশটা আমাকে বুঝিয়ে দিক। আমার টাকার দরকার নেই—আমি শুধু আমার সন্তানের লাশটা চাই। আমার আর কিছু লাগবে না, আমার সব শেষ।”
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিটি উদ্ধার হওয়া মরদেহ যেন একেকটি পরিবারের জীবনে চিরস্থায়ী শূন্যতার প্রতীক হয়ে উঠছে।


