পদ্মাপাড়ে দীর্ঘ হচ্ছে লা’\শের সারি, ১৯ জনের ম’\রদেহ উদ্ধার—অপেক্ষায় স্বজনদের আহাজারি

রাজবাড়ীর রাজবাড়ী (Rajbari) দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদী (Padma River)-তে ডুবে যাওয়া বাসটি ধীরে ধীরে পানির নিচ থেকে টেনে তোলা হচ্ছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা (Hamza)-এর ক্রেন ব্যবহার করে বাসটির সামনের অর্ধেক অংশ ওপরে তোলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৯ জনের ম’\রদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা পদ্মাপাড়জুড়ে এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত পোনে ১টার দিকে নদীর পানির নিচে ডুবে থাকা বাসটির সামনের অংশ উদ্ধার করা হলে একের পর এক ম’\রদেহ বের করতে দেখা যায় ফায়ার সার্ভিস (Fire Service)-এর ডুবুরি দলকে। ভাঙা দরজা আর এলোমেলো ভেতরের দৃশ্য যেন ভয়াবহতার নিঃশব্দ সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাসের ভেতর থেকে ভেসে উঠেছে স্কুল ব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ নানা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র—যেন প্রতিটি জিনিসই হারিয়ে যাওয়া জীবনের গল্প বলছে।

উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু ততক্ষণে পদ্মাপাড়ে জড়ো হওয়া স্বজনদের চোখে শুধু অপেক্ষা আর অজানা আশঙ্কার ছাপ।

নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে পদ্মার পাড়ে ছুটে এসেছেন রোকন। তিনি জানালেন, তার বন্ধুর ছোট বোন ফাতেমা তুজ জোহরা এবং তার জামাই কাজী সাইফ আহমেদ বিকেল সাড়ে ৩টার বাসে রাজবাড়ী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। “পরে জানতে পারি, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দৌলতদিয়ার নদীতে তলিয়ে গেছে। আমরা সাড়ে পাঁচটার দিকে এখানে পৌঁছাই। কিন্তু এখনও তাদের কোনো খোঁজ পাইনি,”—কণ্ঠে উদ্বেগ আর অসহায়তা স্পষ্ট।

আরেকজন স্বজন শরিফুল ইসলাম ভেঙে পড়া কণ্ঠে বলেন, তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, ভাগ্নি ও ভাগ্নির ছেলে একই বাসে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তার স্ত্রী, মেয়ে ও ভাগ্নি সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও সাত বছরের ছেলে ও ১১ বছরের ভাগ্নে এখনও নিখোঁজ। “আমার ছেলে আর ভাগ্নে তো আর নেই… এখন শুধু তাদের লা’\শটা আমাকে বুঝিয়ে দিক। আমার টাকার দরকার নেই… আমার সব শেষ,”—তার এই আর্তনাদ যেন পুরো পরিবেশকে ভারী করে তোলে।

একইভাবে নবীজ উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছেন দুই নাতি-নাতনির আশায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার আকুতি, “আমার নাতি আর নাতনি বাসের মধ্যে ছিল। আমি শুধু তাদের অপেক্ষায় আছি। আল্লাহ, আমার দুইটারে ফিরিয়ে দাও।”

পদ্মার তীরে এ এক নির্মম বাস্তবতা—যেখানে প্রতিটি উদ্ধার হওয়া ম’\রদেহ নতুন করে ভেঙে দিচ্ছে অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *