দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি: মৃ’\ত্যু বেড়ে ২৩, শোকে স্তব্ধ একাধিক পরিবার

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় মৃ’\ত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। এর মধ্যে ১৪ জন নারী এবং ১০ জন পুরুষ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, বাকি দুজনের মরদেহও পরিবারের কাছে হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান।

গতকালের ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় উদ্ধার হওয়া নি’\হতদের তালিকা দীর্ঘ ও হৃদয়বিদারক। তাদের মধ্যে রয়েছেন—রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর লালমিয়া সড়কের মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), কুষ্টিয়া পৌরসভার মজমপুর গ্রামের মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদর উপজেলার রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ীর জহুরা অন্তি (২৭), কাজী সাইফ (৩০), গোয়ালন্দ উপজেলার মর্জিনা আক্তার (৩২), শিশু ইস্রাফিল (৩), সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), ফাইজ শাহানূর (১১), তাজবিদ (৭), গাড়িচালক আরমান খান (৩১), নাজমিরা জেসমিন (৩০), লিমা আক্তার (২৬), জোছনা (৩৫), গোপালগঞ্জের মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুরের নাছিমা (৪০), আশুলিয়ার আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), সোহা আক্তার (১১), আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহের শিশু আরমান (৭ মাস), আব্দুর রহমান (৬), সাবিত হাসান (৮) এবং আহনাফ তাহমিদ খান (২৫)।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুজনের স্বজনরা উপস্থিত হলেই তাদের কাছেও মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে। পদ্মা নদী তীরের ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি তলিয়ে গেলে শুরু হয় উদ্ধার তৎপরতা, আর তার পর থেকেই বাড়তে থাকে মৃ’\ত্যুর সংখ্যা।

এই দুর্ঘটনায় একাধিক পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। একই পরিবারের একাধিক সদস্য হা’\রা’\নোর ঘটনাও সামনে এসেছে, যা পুরো অঞ্চলজুড়ে শোকের ছায়া আরও ঘনীভূত করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *