৫ আগস্ট ২০২৪, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন, যেদিন দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছিল। জনসাধারণের প্রত্যাশা ছিল, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, যুক্তিনির্ভর মতামত এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বাস্তবতা আজ ভিন্ন।
মতপ্রকাশ মানেই ‘ভারতের দালাল’?
বর্তমানে যারা যুক্তিবাদী, স্বাধীনচেতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী, তাদের ওপর চলছে ভয়াবহ অপপ্রচার। বিশেষ করে যারা অতীতে দেশের জন্য অবদান রেখেছেন, আজ তারাই ট্যাগিং সন্ত্রাসের শিকার। একে একে দেখা যাক এই অপপ্রচারের শিকার হওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব:
শাহেদ আলম (Shahed Alam):
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ও ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। নিজের বাবার মৃত্যুতেও দেশে ফিরতে পারেননি। অথচ তাকেই আজ ‘ভারতের দালাল’ বলা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir):
১৭ বছরের বেশি সময় ধরে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ১১ বার কারাগারে গেছেন। বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছেন একাই। আজ তাকেও আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে তকমা দেওয়া হচ্ছে।
জাহেদ উর রহমান (Zahed Ur Rahman):
বামপন্থী রাজনীতিবিদ, যিনি ভারতের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে লড়েছেন। অথচ তার ভিডিওতে হাজারো কটূ মন্তব্য, তাকে ‘ভারতের দালাল’ বলা হচ্ছে।
ফাহাম আবদুস সালাম (Faham Abdus Salam):
উচ্চশিক্ষিত চিন্তাবিদ, সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করায় তারও বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে প্রচারযুদ্ধ।
তাসনিম খলিল (Tasneem Khalil):
গুম, খুন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে শক্ত তথ্য উপস্থাপনকারী এই সাংবাদিক আজ ‘সমকামী’ এবং ‘ভারতের দালাল’ বলে ট্যাগড হচ্ছেন।
জুলকারনাইন সায়ের (Zulkarnain Saer):
আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার সরকারের দুর্নীতি ফাঁস করায়, তাকেও দ্রুত নির্বাচন চাওয়ার জন্য ভারতের এজেন্ট বলে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।
সেনাপ্রধান ওয়াকার (Waqar):
যিনি এক সময় জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশকে রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন, তাকেও এখন বলা হচ্ছে ভারতের পক্ষে কাজ করছেন।
কারা চালাচ্ছে এই অপপ্রচার?
এই ট্যাগিং সন্ত্রাস মূলত তিনটি গোষ্ঠীর চক্রান্ত:
- পলাতক আওয়ামী লীগ কর্মীরা—স্বৈরাচার পতনের সঙ্গে যুক্তদের প্রতি প্রতিশোধ নিতে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছেন।
- জামায়াত-শিবির—তাদের ইতিহাসের কালিমা ঢাকতে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রপন্থীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
- নাগরিক পার্টি (Nagarik Party / NAPA)—নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে এবং নিজেদের অবস্থান তৈরির উদ্দেশ্যে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালাচ্ছে।
গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করুন
গঠনমূলক সমালোচনার পরিবেশ নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। বিএনপি কিংবা অন্য কোনো দল নিখুঁত না হলেও, রাজনৈতিক আলোচনা হতে হবে তথ্যভিত্তিক ও যুক্তিসঙ্গত।
বাংলাদেশ যদি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে চায়, তবে অপপ্রচার ও ট্যাগিং সন্ত্রাসের অবসান ঘটাতে হবে।
সত্যের পক্ষে থাকুন, মিথ্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত একটি পোষ্ট