যে হাতে সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লিখি, সে হাতেই হাতকড়া : সাংবাদিক পান্না

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে হাজির হওয়ার সময় হাতকড়া উঁচিয়ে প্রতিবাদের ভাষা খুঁজলেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না (Manjurul Alam Panna)। তিনি ক্ষোভভরা কণ্ঠে বলেন, “সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এই হাতে লেখে। দেখেন, সেই হাতেই এখন হাতকড়া। বলুন তো, সাংবাদিকরা কী লিখবে, কার পক্ষেই বা লিখবে?”

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (Abdul Latif Siddique), অধ্যাপক কার্জন ও সাংবাদিক পান্নাসহ মোট ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে, সবাইকে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে এজলাসে তোলা হয়। শুধু অধ্যাপক কার্জনের হাত বাঁধা হয়নি।

সেই সময় পান্না হাতকড়া বাঁধা হাত উঁচিয়ে বলেন, “আপনাদের কি মনে হয় আমরা সন্ত্রাসী? মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে কথা বলা, তাদের সঙ্গে থাকা কি সন্ত্রাস?” তিনি প্রশ্ন রাখেন, স্বাধীনতার জন্য যাঁরা জীবন বাজি রেখেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা কি সন্ত্রাসবাদের পরিচায়ক?

শুনানির সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক তৌফিক হাসান আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. শামসুদ্দোহা সুমনও একই দাবি জানান। অন্যদিকে পান্নার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জামিন আবেদন করেন।

একপর্যায়ে পান্না আদালতে নিজে কথা বলতে চান। বিচারক তাঁকে আইনজীবীর মাধ্যমে বক্তব্য দিতে বললেও তিনি সরাসরি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা কি দোষ? আমরা সাংবাদিকরা কি কথা বলতে পারব না?” এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর কাইয়ুম হোসেন নয়ন। তিনি অভিযোগ করেন, পান্না আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন সুবিধা নিয়েছেন, আর এখন আদালতকক্ষে সবাইকে থামিয়ে কথা বলার চেষ্টা করছেন। এতে পান্না ও নয়নের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যযুদ্ধ শুরু হয়, আদালতে হট্টগোলও তৈরি হয়।

শুনানি শেষে বিচারক সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর হাজতখানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিক পান্না আবারও উচ্চ কণ্ঠে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “এই দেখেন আমার হাতে হাতকড়া।” তবে পুলিশ তাঁকে হাত দেখাতে বাধা দেয়। তখন ক্ষোভে ফেটে পড়ে তিনি চিৎকার করে বলেন, “হাতকড়া পরাবেন, কিন্তু দেখাতে দেবেন না—এ কেমন কথা!”

পরে বেলা ১১টা ৫১ মিনিটে আসামিদের প্রিজনভ্যানে করে কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। ভ্যানের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকিয়ে পান্না শেষবারের মতো প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “সাংবাদিকরা কি কথা বলতে পারবেন না? সাংবাদিকদের হাতে হাতকড়া—এটা কোন দেশ, কোথায় আছি আমরা?”

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ডিআরইউতে ‘মঞ্চ ৭১’ ব্যানারে একটি গোলটেবিল আলোচনা চলাকালে হঠাৎ একদল ব্যক্তি নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে সেখানে উপস্থিত ১৬ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এর পরদিন শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয় এবং শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *