ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ–সদর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি) নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। আবেদনে তিনি ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখান।
মুর্শিদা খাতুন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক বিএনপি সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী। গত ২৯ ডিসেম্বর (সোমবার) দুপুরে তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে বৃহস্পতিবারই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়টি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও সাংবাদিকদের একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টায়ও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে একই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খাঁন (Rashed Khan)। তিনি কিছুদিন আগেই গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পান।
তবে রাশেদ খাঁনের প্রার্থীতা নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির ভেতরে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করছেন। এমনকি ধানের শীষের মনোনয়ন বঞ্চিত একাংশের সমর্থকেরা “কাফনের কাপড় পরে” বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বলেও জানা গেছে।
এ আসনে আরও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। ফলে একাধিক বিএনপি–ঘনিষ্ঠ প্রার্থী থাকায় এ আসনে দলীয় ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুর্শিদা খাতুনের সরে দাঁড়ানোতে কিছুটা হলেও বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খাঁনের নির্বাচনী পথ প্রশস্ত হলো, যদিও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ এখনো বিরাজমান।


